বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের প্রতি গুতেরেসের আহ্বান

বিজ্ঞাপন

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ‘বিধ্বংসী পরিস্থিতি’ ও চলমান সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষে সমবেত বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ চোখের সামনে ধূলিসাৎ বা বিলীন হতে দেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের জেনারেল ডিবেট শুরু হয়। উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের জঘন্য সন্ত্রাসী হামলার প্রায় তিন বছর কেটে গেছে। কিন্তু এর পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হামলা শুরু হয়েছে, তাতে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ছিল এমন কিছু, যা মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের বছরগুলোতে আমি দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বসতি সম্প্রসারণ শান্তির পথকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং জাতিগত নির্মূলের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।’

গুতেরেস বলেন, ‘আমরা চোখের সামনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে বিলীন হতে দিতে পারি না।’ এ কথা বলার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত সবাই করতালিতে ফেটে পড়েন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই হল থেকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিই: যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। মানবিক সহায়তা অবশ্যই পৌঁছাতে হবে। এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

জাতিসংঘের মূল্যবোধের জন্য সবসময় লড়াই করে যাওয়ার কথাও জানান গুতেরেস। সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে তার শেষ ভাষণ শেষে উপস্থিত বিশ্বনেতারা প্রায় ৩০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।

গুতেরেস বলেন, ‘আমি যখন আর মহাসচিব থাকব না, তখন এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকবেন। আমি যেখানেই থাকি বা যা-ই করি না কেন, আমি এই বিশ্বাসকে সমর্থন করে যাব যে শান্তি সম্ভব, মানব মর্যাদা সার্বজনীন, ক্ষমতার ওপর আইনের শক্তির জয় হওয়া আবশ্যক এবং আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা সার্থক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ সনদের মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখব এবং আমি কখনোই হাল ছাড়ব না।’ চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফরসূচি শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এ প্রাতরাশের আয়োজন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন। সেখানে তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। এ সময় আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন তারা।

প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

পড়ুন : তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন