মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরে যাওয়ার পথে মাপেরা গ্রামের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআরসির টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোয়ি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ যাত্রী ও পণ্যবোঝাই নৌকাটিতে থাকা অন্যদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআরসির কালেমি শহরের উদ্দেশে রওনা দেয় নৌকাটি। মাপেরা গ্রামের কাছে যাওয়ার পর এটি ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের একজন অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘ-সমর্থিত কঙ্গোর সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম ভাঙে। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে।
নৌকাটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিআরসিতে নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির নৌযানগুলোতে প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন করা হয়। অনেক নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও থাকে না।
ডিআরসির বহু মানুষের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য মাধ্যম নৌপথ। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে ১০ কোটির বেশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কিগোমা-কালেমি নৌপথে এটি দ্বিতীয় কঙ্গোলীয় নৌযান দুর্ঘটনা। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট জ্বালানি নেওয়ার সময় কিগোমা বন্দরে কঙ্গোর নৌযান এমভি প্যাসিফিকেতে আগুন ধরে যায়। পরে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানায়, ওই ঘটনায় নৌযানটির ছয়জন কর্মী নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচলকারী নৌযানটি জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
এর আগে গত জুলাইয়ে কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হন।
পড়ুন : বাংলাদেশকে মেরামতে সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশল: প্রধানমন্ত্রী
সা/


