বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১ অক্টোবর ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

আগামী ১ অক্টোবর ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরটি এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি পরশুরামের খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং প্রস্তাবিত জনসভাস্থল ঘুরে দেখেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

এরপর ফুলগাজীতে গিয়ে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই সঙ্গে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।

পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার জন্য অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন জোনে ভাগ করা হবে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা তিনি জানাননি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্যও আলাদা কার্ড থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরাই সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের অংশ হোয়াইট জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। তবে তাঁর ফেরার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ।

জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনের পাশাপাশি অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে।

সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে তিনি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায়ও বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বের ঘটনাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য হিসেবে উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। এটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দেশের জন্যও এটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেই মন্ত্রিসভা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পড়ুন : ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত, ছাড়ের খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন