চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আবুল মুনছুর (৪৬) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুনছুরের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আসর উপজেলার হযরত ওমর ফারুক (রহ.) মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত আবুল মুনছুর সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার খলিল ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সালামত উল্লাহ ওরফে জুনুর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া এলাকায় স্থানীয় মোজাফফর আহমেদ ভূঁইয়ার নতুন বাড়ির সামনে মুনছুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে গত রোববার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মেহেদি হাসান প্রকাশ রানা, জাহাঙ্গীর, আমির হোসেন, আলমগীর, সাইমন, মহিন উদ্দিন, আশিক ও নিশানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘নয় দিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় মুনছুর আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার তার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া ও দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় গত ছয় মাসে পৃথক ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ মুনছুরের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পড়ুন : সবুজ আখাউড়ার স্বপ্ন, শিক্ষার্থী-পথচারীদের হাতে গাছের চারা


