বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ এবার বিদায়ের পথে। দীর্ঘ ২২ বছরের পথচলা শেষে অনুষ্ঠানটির পর্দা নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলিউডের প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
করণ জানিয়েছেন, ‘কফি উইথ করণ’-এর আসন্ন নবম সিজনই হতে যাচ্ছে অনুষ্ঠানের শেষ মৌসুম। দীর্ঘদিন ধরে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক ও নানা অজানা গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির করা এই অনুষ্ঠান এবার শেষ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
বিদায় ঘোষণায় করণের কণ্ঠে ছিল আবেগ ও স্মৃতির ছাপ। তিনি জানান, জীবনের কিছু যাত্রার সমাপ্তি আগে থেকে পরিকল্পনা করে হয় না। বরং একটা সময় আসে, যখন নিজের ভেতর থেকেই মনে হয়, এবার থামার উপযুক্ত সময় হয়েছে।
করণ বলেন, ‘কিছু সফর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে শেষ করতে হয় না। তবে একটা সময় আসে, যখন অন্তরের গভীর থেকে অনুধাবন করা যায় বিদায় জানানোর এটাই উপযুক্ত সময়। আলবিদা বলাটা অত্যন্ত আবেগের, তবে আমার মনে হচ্ছে এখনই সঠিক সময়।’
শেষ মৌসুম নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন করণ। তাঁর ভাষায়, বিদায়ের এই সময়ে তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা নিয়ে শেষবারের মতো সেই সব তারকার সঙ্গে কফির কাপ হাতে আড্ডায় বসা, যাঁরা অনুষ্ঠানটিকে এতটা জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই শেষ মৌসুমে আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো অন্তরের সবটুকু কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা নিয়ে শেষবারের মতো তাদের সঙ্গেই কফির কাপটা তুলে ধরা, যারা ‘কফি উইথ করণ’-কে আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।’
‘কফি উইথ করণ’-এর শুরু ২০০৪ সালে। তখন করণ জোহর ছিলেন বলিউডের পরিচিত পরিচালক ও প্রযোজক। কিন্তু টক শো সঞ্চালনার ধারণাটি ছিল তাঁর জন্য একেবারেই নতুন।
নিজের বিদায়ী বার্তায় সেই শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিও ফিরে দেখেছেন করণ। তিনি জানান, ২০০৪ সালে তাঁর বাবা ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক যশ জোহরের কাছে প্রথম এই ধরনের একটি টক শো করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
করণের পরিকল্পনা ছিল, দুজন জনপ্রিয় তারকাকে মুখোমুখি বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে খোলামেলা গল্প করা। তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, কাজের অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক ও ক্যারিয়ার নিয়ে আড্ডার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তাঁদের অন্যরকম একটি পরিচয় তুলে ধরাই ছিল মূল ভাবনা।
তবে ছেলের এমন পরিকল্পনার কথা শুনে যশ জোহর মজা করে প্রশ্ন করেছিলেন—বন্ধুদের ডেকে শুধু গল্প করলেই তার জন্য কে টাকা দেবে? সেই সময় হয়তো কেউই ধারণা করতে পারেননি, সাধারণ আড্ডার মতো দেখতে এই অনুষ্ঠানই একসময় ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত টক শো হয়ে উঠবে।
দুই দশকের বেশি সময়ে ‘কফি উইথ করণ’ বলিউডের অসংখ্য তারকাকে একই সোফায় বসিয়েছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি পরিচালক, প্রযোজক ও বিনোদন অঙ্গনের অন্যান্য পরিচিত মুখও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব ছিল তারকাদের সঙ্গে করণের সরাসরি ও ব্যক্তিগত ধরনের কথোপকথন। তাঁদের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, সিনেমা, ক্যারিয়ার, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে নানা প্রশ্নের কারণে প্রতিটি পর্ব ঘিরেই তৈরি হতো দর্শকদের আগ্রহ।
অনেক সময় অনুষ্ঠানে তারকাদের দেওয়া বক্তব্য পরবর্তী সময়ে বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু একটি চ্যাট শো হিসেবে নয়, বলিউডের তারকাদের নিয়ে আলোচনার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও পরিচিতি পায় ‘কফি উইথ করণ’।
এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি আটটি সিজন পার করেছে। সব মিলিয়ে সম্প্রচার হয়েছে ১৬১টি পর্ব। দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশন থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম—বিনোদনের মাধ্যম পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েও অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন করণ।
বিদায় ঘোষণার পর এখন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নবম সিজন। শেষ মৌসুমে কারা অতিথি হিসেবে আসবেন, তাঁদের সঙ্গে করণের কী ধরনের আড্ডা হবে এবং অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব কীভাবে সাজানো হবে—এসব নিয়ে ইতিমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দর্শকদের জন্য শেষবারের মতো তারকাদের নিয়ে কফির আড্ডা সাজাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন করণ। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘জিও হটস্টার’-এ ‘কফি উইথ করণ সিজন ৯’ স্ট্রিমিং শুরু হবে।
দীর্ঘ ২২ বছরের এই যাত্রায় অনুষ্ঠানটির ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে বলিউডের তারকাদের প্রজন্মও। একসময় যাঁরা অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে এসেছেন, তাঁদের অনেকে এখন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও পরবর্তী সময়ে এই আড্ডায় যোগ দিয়েছেন।
তাই নবম সিজন শুধু নতুন একটি মৌসুম নয়, করণের জন্যও এটি একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ পর্ব। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তারকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরার পর এবার সেই পরিচিত কফির কাপ নামিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন করণ জোহর।
‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ সিজন তাই দর্শকদের জন্য যেমন নতুন কিছু তারকা-আড্ডার সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি দুই দশকের বেশি সময়ের স্মৃতি ফিরে দেখারও উপলক্ষ হয়ে উঠবে।
পড়ুন:ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জানালেন সালমান মুক্তাদির
ইমি/


