বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জুড়ীতে ৫০ বিঘার খামারে মরল ২০ টন মাছ, বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রায় ৫০ বিঘা জমির একটি মৎস্য খামারে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। খামার মালিকের পরিবারের দাবি,
মারা গেছে প্রায় ২০ টন মাছ। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা করছেন।

এ ঘটনায় খামারের পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তবে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই চা-বাগানের নলডুড়ী বস্তি-সংলগ্ন এলাকায় ইলিয়াস মিয়া সরদারের মৎস্য খামারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আজ ভোর থেকে খামারের পানিতে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২০ জন শ্রমিক পানি থেকে মরা মাছ তুলে বড় গর্ত করে মাটিচাপা দিতে শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত ইলিয়াস মিয়া সরদার নিজের সঞ্চয় ও পুঁজি বিনিয়োগ করে খামারটি গড়ে তুলেছিলেন।

আগামীকাল খামারের মাছগুলো বিক্রির প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু এক রাতেই খামারের বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় আমার বাবা তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খামার মালিকের ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, “আগামীকাল মাছগুলো বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। অক্সিজেনের অভাবে এভাবে এত মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমার ধারণা, বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।”

তবে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

জুড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, “ঘটনাটি এইমাত্র আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন মাছ মারা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িত কেউ থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন