বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভয় দেখিয়ে পদ্মা নদীতে শাহজালালের চাঁদাবাজীর অভিযোগ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পদ্মা নদীতে একটি সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলেরা। নদীতে নৌকা আটক করে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আদায় করছে এ চক্র। ভেদরগঞ্জ মৎস্য অফিসের যোগসাজশে চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহজালাল হাওলাদার নামে মৎস্য অফিসের স্পিডবোর্ড ড্রাইভার- এমন অভিযোগ স্থানীয় জেলেদের। আগামী মাসের ৮ তারিখে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের নামে শাহাজালাল জেলেদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা তুলছে। তার সঙ্গে সেলিম মির্জ্বি ও মোস্তফা মোল্লার নামও রয়েছে। তবে নিয়মিত চাঁদাবাজি চললেও পুলিশের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীেরা জানায়, এর আগে শনিবার উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ স্বীকার করতেছিল সুমন, রহমত ও লালমিয়া বন্দুকসি। রাত ১০ টার দিকে শাহজালাল ও মোস্তফা নামের দুই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ধরে উত্তর তারাবুনিয়া গাজিকান্দি এলাকায় নদীর তীরে তাদের মাছ ধরতে যাওয়া তিনটি নৌকা আটক করেন শাহজালাল ও মোস্তফা মোল্যা। উপজেলা মৎস্য অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলে। পরে কিছুক্ষণের মধ্যে শাহজালাল বলে যদি তোমরা এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দাও তাহলে ছেড়ে দেব। তখন শাহাজালালের ব্যক্তিগত নাম্বারে ১ লাখ বিশ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে।

পরে লাল মিয়া বন্দুকসি ২০ হাজার টাকা, সুমন বিয়ারি ৩৭ হাজার টাকা এবং রহমত মোল্যা ৪০ হাজার টাকা শাহজালালের মোবাইল নম্বরে পাঠান। তিনজনের কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শাহাজালালের ব্যাক্তিগত মোবাইল নাম্বারে বিকাশে ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। টাকা পাঠানোর একটি প্রমান রিপোর্টারের হাতে এসেছে।

জানা যায়, টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নৌকার ব্যাটারি ও মাছ ধরার সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিষয়টি সখিপুর বাজারে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এ নিয়ে দরবার বসে। সেখানে নেওয়া মালামাল ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় একজনকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

লাল মিয়া বন্দুকসি বলেন, “নদীতে নৌকা আটক করে টাকা দাবি করা হয়। পুলিশে দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”
সুমন বিয়ারি বলেন, “মৎস্য অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের আটক করা হয়। পরে ৩৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল।”

রহমত মোল্যা বলেন, “আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। নৌকার ব্যাটারি ও মাছ ধরার সরঞ্জামও নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে দরবার হওয়ার পর মালামাল ফেরত দেওয়া হয়।”

ছুরিরচর এলাকার বাসিন্দা জালাল বলেন, ঘটনাটি ভুক্তভোগীরা আমার কাছে আসলে আমি তাদের শাহজালালের মুরুব্বির কাছে জানাই। তারপর তারা ১০ হাজার টাকা ফেরত দেয় এবং ব্যাটারি ফেরত দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমাধান করা হয়েছে। আমি ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দিছি। মালামাল ফেরত দিয়েছি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন,এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত অনুসারে তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জেলা মৎস্য অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার দেব, শাহজালাল বা মোস্তফা সেলিম এ নামে আমাদের মৎস্য অফিসের লোক নেই।যদি মৎস্য অফিসের নামে কোন চাঁদা কেউ নেয় জেলেদের জিম্মি করে। আমাদের বিভাগীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদপুর জোনের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান। বলেন,নদীতে এরকম কোন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী কে আমাদের কাছে মামলা করতে বলেন। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।

পড়ুন : চকবাজারে গৃহবধূ নিখোঁজ, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন