পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কাগজ জাল সৃষ্টি করে গভর্নিং বডি অনুমোদন নিয়ে, উপাধ্যক্ষসহ চার পদের নিয়োগ দেয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম। পরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করে অনুমোদন নিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি তৎকালীন বার বার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ অবসরের পর সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে শিক্ষা বোর্ডে লবিং শুরু করেছেন উপাধ্যক্ষ আব্দুল বাসেত। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষা বোর্ড ১৪ জুলাই ২০২১ তারিখে একটি এডহক কমিটি অনুমোদন করে যার মেয়াদ শেষ হয় ১৩ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে।এর আগে ৫ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে গভর্নিং বডি গঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে ১৮ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে গভর্নিং বডি অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র বোর্ডে প্রেরণ করা হলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কমিটি অনুমোদন না করে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার পূর্বের এডহক কমিটির ১৪ জুলাই ২০২১ তারিখ পরিবর্তন করে ১৪ আগস্ট ২০২১ তারিখ করে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে পুনরায় গভর্নিং বডি অনুমোদনের জন্য ৬ জুন ২০২২ শিক্ষা বোর্ড আবেদন করেন। পরে বোর্ড ২৯ আগস্ট ২০২২ তারিখে গভর্নিং বডি অনুমোদন দেন। বিধি বহির্ভূত ভাবে গভর্নিং বডি গঠন ও অনুমোদনের বিষয়টি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য আনছারুল ইসলাম জানতে পেরে ৫ মার্চ ২০২৩ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন। বোর্ড কর্তৃক ২৮ মার্চ অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানো হয়। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায়, ৩ মে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। চেয়ারম্যানের নির্দেশে রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো.সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে কাগজপত্র জালসহ তারিখ পরিবর্তন করে গভর্নিং বডি অনুমোদন নেওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে একই সাথে আহবায়ক কমিটি গঠন করে অনুমোদন নিতে বলার আদেশ দেন। কিন্তু এর আগে তৎকালীন অধ্যক্ষ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর গভর্নিং বডির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম ২১ মার্চ ২০২৩ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ২৭ মার্চ ২০২৩ তারিখে মোটা অংকের নিয়োগ বাণিজ্য করে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ,অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ দেন। উপাধ্যক্ষ আব্দুল বাসেত সহ ৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে তড়িঘড়ি করে তাদের এমপিও ভুক্ত করেন। অনৈতিক ভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের জন্য প্রতি মাসে সরকারের লাখ টাকা নষ্ট হচ্ছে।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল বাসেতকে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকীম সরকার বলেন, যখন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তখন আমি ছিলাম না। বর্তমানে কমিটি নাই আমি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি, তবে প্রতিষ্ঠানে কমিটি হলে বিষয় টা দেখা যাবে।
পড়ুন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত থেকে ভারতীয় মাদক ও মালামাল উদ্ধার


