যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া ডিজেলের দাম কমাতে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে সই করা এই আদেশে তুলনামূলক কম দামের ‘রেড-ডাইড ডিজেল’ ব্যবহারের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে জ্বালানির খরচ কমার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও কমতে পারে।
নেব্রাস্কায় এক নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে নির্বাহী আদেশে সই করার কথা জানান ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, নতুন আদেশের ফলে যে কেউ যেকোনো প্রয়োজনে করমুক্ত লাল রঙের ডিজেল কিনতে পারবেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন খরচ কমিয়ে বাজারে পণ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই আদেশের ফলে মুদি পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের খরচ কমবে।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম কমলে পরিবহন খাতে ব্যয় কমবে। আর পরিবহন ব্যয় কমলে কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করার খরচও কমে আসতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে মনে করছে তার প্রশাসন।
রেড-ডাইড ডিজেল মূলত সাধারণ ডিজেলের মতোই একটি জ্বালানি। তবে এর প্রধান পার্থক্য হলো, এটি করমুক্ত এবং নির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্য লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত মহাসড়কের বাইরে ব্যবহারের জন্য এই জ্বালানি অনুমোদিত। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র এবং শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতিতে ব্যাপকভাবে রেড-ডাইড ডিজেল ব্যবহার করা হয়।
লাল রঙের মাধ্যমে এই জ্বালানিকে সাধারণ ডিজেল থেকে আলাদা করে শনাক্ত করা হয়। কারণ সাধারণ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর নির্দিষ্ট ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কর প্রযোজ্য থাকে। অন্যদিকে রেড-ডাইড ডিজেল নির্দিষ্ট অফ-রোড ব্যবহারের জন্য কর সুবিধা পেয়ে থাকে।
এতদিন এই জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ছিল। বিশেষ করে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে করমুক্ত রেড-ডাইড ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ সীমিত ছিল। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে সেই বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মহাসড়কে ‘ডাইড’ বা লাল রঙের ডিজেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই জ্বালানির ওপর প্রযোজ্য ফেডারেল আবগারি কর স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, করমুক্ত রেড-ডাইড ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হলে জ্বালানির খরচ কমবে। এর ফলে পরিবহন খাতে ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেলনির্ভর ট্রাক, কৃষিযন্ত্র ও বিভিন্ন শিল্পযন্ত্র পরিচালনার ব্যয় কমলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়বে।
ডিজেলের দাম কমানোর এই উদ্যোগকে শুধু জ্বালানি খরচ কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে না ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের প্রত্যাশা, জ্বালানির দাম কমলে পণ্য পরিবহনের খরচও কমবে। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিপণ্য ও মুদি সামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকের মাধ্যমে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পরিবহন করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম কমলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয়ের চাপ কমতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুদি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে থাকা সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে মনে করছে তার প্রশাসন।
তবে নির্বাহী আদেশটি মূলত সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা বাস্তবে কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে ডিজেলের বাজারদর, করনীতি এবং পরিবহন ও সরবরাহ খাতের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে জ্বালানি ব্যয় কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এই নীতির বাস্তবায়ন এবং এর ফলে বাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দামে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটিই দেখার বিষয়।
পড়ুন:সৌদির নিরাপত্তায় তুরস্ক-পাকিস্তান, দ্রুত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা
ইমি/


