কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। আজ বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে শহরের হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কুকুরটি কামড়াতে শুরু করে। এক ঘন্টার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় ২৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। রাত ৯টা পর্যন্ত তাদের মধ্যে ২৭ জনকে ড্রেসিং করা হয় এবং ২৫ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (র্যাবিস ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে।
রাত ১১ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সুর্পনা লতিফ আহমেদ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পেয়েছি। এদের মধ্যে রাত ৯টা পর্যন্ত ২৭ জনকে সনাক্ত করে, ২৫জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। এর পরে যারা এসেছেন তাদের ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু ৭২ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়, বাকীদের আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হবে। পর্যাপ্ত পরিমান জলাতঙ্কের প্রতিষেধক মজুত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ শেষে বাড়ি ফেরা ও রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের ওপর হঠাৎ হামলে পড়ে কুকুরটি। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় কিংবা আঁচড় দিয়ে দ্রুত অন্যদিকে চলে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আহত রোকন মিয়া উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা পেছন থেকে কুকুরটি এসে হাঁটুতে কামড় বসিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তার স্বার্থে কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটক করতে প্রশাসন তৎপরতা চালাচ্ছে।
পড়ুন : হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও রসুন জব্দ


