দেশে বছরে ডিম উৎপাদন দুই হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখে পৌঁছালেও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় মাথাপিছু প্রাপ্যতা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। বর্তমানে একজন মানুষের জন্য বছরে ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি। ২০৩০ সালের মধ্যে এ পরিমাণ ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে আগামী চার বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা ৬৮টি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ ও খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আজ শুক্রবার (বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন, পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা এবং খাদ্যনিরাপত্তায় এর অবদান তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে ডিম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৩১ লাখ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখে। এ সময়ে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ।
তবে উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধির পরও মাথাপিছু প্রাপ্যতা ১৪০টিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২০৮টিতে নিতে হবে। এ জন্য মোট উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনব্যবস্থাকে টেকসই করা এবং খামারিদের ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ড. হোসেন মো. সেলিম বলেন, ‘১৯৯০ সালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থা একজন মানুষের জন্য সপ্তাহে দুটি করে বছরে ১০৪টি ডিমের চাহিদা নির্ধারণ করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ায় জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমানে সপ্তাহে মাথাপিছু চারটি করে বছরে ২০৮টি ডিমের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি।’
পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) জানিয়েছে, দেশে ডিমের উৎপাদন মানুষের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে মাথাপিছু প্রাপ্যতার হিসাব বলছে, পুষ্টির প্রয়োজন বিবেচনায় উৎপাদন আরও বাড়ানো দরকার। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং শিশু-কিশোরদের পুষ্টির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
এদিকে ডিমের বাজারে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রফিকুল ইসলাম নামের এক খামারি বলেন, একদিকে ভোক্তার জন্য ডিমের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে খামারি উৎপাদন খরচের তুলনায় পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন থেকে সরে যেতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে ডিমের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরার ফাহাদের পরিবারের সাক্ষাৎ
সা/


