বিয়ের চার বছর পর হলো প্রথম সন্তান, হাসপাতাল থেকে হয়ে গেল চুরি

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ছেলে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া নবজাতকের মা মরিয়ম (১৯)। তার স্বামী শামীম বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। এটি তাদের প্রথম সন্তান। মরিয়মের বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চানপুর এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতক কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মরিয়মের বিয়ে হয়।দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সে প্রথমবারের মতো গর্ভবতী হয়। তার মা মমতাজ বেগম মেয়ে মরিয়মকে গত ৪ অক্টোবর সকালে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরদিন সকালে চিকিৎসক ডা. ইশরাত হোমায়েরা নীলার তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। সন্তান প্রসবের পর সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে একনারী এসে নবজাতক ও মায়ের খোঁজ নেয়। সেই নারী নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে আদর করে। এরই ফাঁকে তাকে নিয়ে উদাও হয়ে যায় ওই নারী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখলেও সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগেই এমন ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা মমতাজ বেগম বলেন, “মরিয়মকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার নাতিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। বিয়ের ৪ বছর পর নাতির মুখ দেখেছি, কিন্তু নাতিকে ধরে রাখার ভাগ্য হলো না। আমার কী হবে, আমি বুঝতে পারছি না।”

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার সুবর্ণা জানান, বিকেলে মিডওয়াইফ নার্স নুসরাত জাহান এ্যানি, নার্স ফাতেমা আক্তার ও সাদিয়া খানম দায়িত্বে ছিলেন। তারা ঘটনাটি অবগত করার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি৷ রোগীর সংখ্যা অনেক থাকায় কে কার বাচ্চা কোলে নিয়েছে, সেগুলো খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না। তবে রোগীদের একাধিকবার সাবধানে বাচ্চা রাখার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা তা শোনেন না। যে কারণে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিন ভূইয়া বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, ঘটনার পরপরই হাসপাতালে এসেছি। সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নবজাতক উদ্ধারে কাজ করছে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে নবজাতক নিয়ে এক নারীকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাওয়ায় তাকে শনাক্ত ও নবজাতক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পড়ুন : বোয়ালখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন