সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি ভ্রমণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ইউএস-বাংলার BS381 ও BS382 নম্বরের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের সকল ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে নতুন সূচি নির্ধারণ হলে তা যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই সাময়িক অসুবিধার জন্য ক্ষমা চেয়ে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি টিকিট পুনঃবুকিং, হালনাগাদ তথ্য এবং ফ্লাইটের অবস্থান জানতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে এয়ারলাইনসটির নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে।
টানা চার দিনে একাধিক এয়ারলাইনসের ১০ ফ্লাইট বাতিল
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে টানা চার দিন ধরে সেখানে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাবে ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিভিন্ন বিমান সংস্থার মোট ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত যে ৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল, তার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি, সৌদিয়ার ৩টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৩টি ফ্লাইট ছিল। এসব ফ্লাইটে ৩ হাজার ১২ জন যাত্রী যাতায়াতের অপেক্ষায় ছিলেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত এক সভার সূচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার দরুন কেবল বাংলাদেশের বিমান নয়, বরং বৈশ্বিক সকল এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অপারেশনই স্থগিত রয়েছে। এটি বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষই বিমানবন্দর বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ফ্লাইট চলাচলে বাধাগ্রস্ত হওয়া ১০টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি করে এবং সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের ৩টি করে ফ্লাইট রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
দাম্মাম ও মদিনা রুটে বিনা খরচে যাত্রী সমন্বয়ের চেষ্টা
রিয়াদ বিমানবন্দর চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা অনিশ্চিত থাকায় যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে সৌদি আরবে পাঠানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ জানান, রিয়াদগামী যাত্রীদের কষ্ট কমাতে মদিনা ও দাম্মামগামী ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনা খরচে যাত্রী সমন্বয়ের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দাম্মাম ও মদিনায় বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত চালু রয়েছে। আসন খালি থাকলে যাত্রীদের সেখানে সামঞ্জস্য করা হবে, তবে এক্ষেত্রে যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দিকগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, কিংবা যাদের জরুরি ভিত্তিতে কর্মস্থলে যোগদান ও পারিবারিক প্রয়োজন রয়েছে—তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে অন্য ফ্লাইটে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলছে না; কখনো জানানো হচ্ছে রাত ১টা পর্যন্ত, আবার কখনো পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলা হচ্ছে। এমন অস্পষ্টতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিকল্পনা করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় সৌদি আরবকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে যতটুকু সম্ভব বিকল্প উপায়ে সাহায্য করা হচ্ছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও হালনাগাদ তথ্যের তাগিদ
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। যাত্রীরা যেন আগেভাগেই ফ্লাইটের সঠিক সংবাদ জানতে পারেন এবং বিমানবন্দরে এসে বিড়ম্বনায় না পড়েন, সেদিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন সূচি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম ছাড়াও বিমানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, কল সেন্টার এবং টেলিভিশনের স্ক্রলের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে অবহিত করা হচ্ছে।
টিকিট ফেরত কিংবা অন্য ফ্লাইটে যাত্রার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট, তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও তাদের সুরক্ষাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ফ্লাইট চালিয়ে কারও জীবন বিপন্ন করা সম্ভব নয় এবং নিরাপত্তার প্রশ্নটিই সবচেয়ে আগে দেখতে হবে।
যতক্ষণ না পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প পথ হিসেবে মদিনা ও দাম্মামের মাধ্যমে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : চুয়েটের উপাচার্য ভবনে ফের তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সা/


