আওলাদ জিসানের বিরুদ্ধে ভিসি নিয়ে দ্বিচারিতা ও ডিবেটিং ক্লাবের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আওলাদ জিসানের বিরুদ্ধে উপাচার্যকে ঘিরে অবস্থান পরিবর্তন, নতুন কমিটি গঠন বিলম্বিত করা এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির মেয়াদ আট মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন আওলাদ জিসান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ তুলে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে প্রথমে শুভেচ্ছা জানানো হলেও পরে তাঁকে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আবার শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে দ্বিচারিতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এমন অবস্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে।

ডিবেটিং সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৌহিদুল। তাঁর দাবি, কমিটির মেয়াদ আট মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া অধ্যক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠন ঠেকাতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এটিএন বাংলাসহ বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় নির্দিষ্ট কয়েকজনকে পাঠিয়ে অন্যদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তৌহিদুল। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ডিবেটিং সোসাইটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের জবাবে আওলাদ জিসান বলেন, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোনি প্রতিষ্ঠা করবেন। সে কারণেই শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে বয়কট কর্মসূচি পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের অবস্থান পর্যালোচনা করে তাঁরা বুঝতে পারেন, তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে ধারণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা রাখেন। এরপর তাঁরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে আওলাদ জিসান বলেন, ডিবেটিং সোসাইটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। মডারেটর শিক্ষকেরাও চেষ্টা করেও কমিটি গঠন করতে পারেননি। একপর্যায়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠিত হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে সিন্ডিকেটের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, মডারেটর শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতার জন্য সদস্য নির্বাচন করা হয়।

এদিকে, ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাইমুল ইসলাম সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, তাঁর জানা অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মডারেটররা এখনো নির্বাচন আয়োজন করেননি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর আসমা আক্তার বেলি জানান, বিতর্কের অনুষ্ঠান টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বলে অংশগ্রহণকারীদের আমরা বেছে বেছে পাঠাতে চাই । তবে ধীরে ধীরে সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বিতর্কের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক সময় অর্থের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ম্যাডাম আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন, যা সদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়। পাশাপাশি, বিতর্কের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও অন্যান্য সহযোগিতাও দেওয়া হয়। এদিকে, ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচন পূজার ছুটির পর আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পড়ুন:আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, সারাদেশে ৩৩,৮৫১ মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন