তারুণ্যের মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার: মাহ্‌দী আমিন

শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে স্পষ্ট ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব সরকার পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’ (এমইউএন) কর্মসূচির সমাপনী ও মূল্যায়ন পর্বে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমইউএন আয়োজনের গুরুত্ব ও শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন বলেন, “মডেল ইউনাইটেড নেশনস আমাদের শেখায়, মানুষের মধ্যে ভিন্নমত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। তবে দেশের উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ ও সমাজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।”

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিপুল উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেন, “তাদের আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ, দৃষ্টিভঙ্গি ও উচ্চাভিলাষ আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতির প্রতিফলন। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চায়।”

সহশিক্ষা কার্যক্রমের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব সরকার মূল পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও উৎসাহিত করছে। প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে।”

মডেল ইউনাইটেড নেশনসের মতো আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্মগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে উপদেষ্টা আশ্বাস দেন যে, এখান থেকে উঠে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। এজন্য সরকার নীতিগত সহায়তা এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-সহ সংশ্লিষ্ট সকল উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শক্তি হিসেবে তরুণদের উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের ইতিহাস ও বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে তরুণরাই অদম্য শক্তির পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, “তরুণদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মধ্য দিয়েই স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশের ওপর জোর দিয়ে মাহ্‌দী আমিন যোগ করেন, “সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক ন্যায্যতা, সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাবেন। ভিন্নমত প্রকাশ, বিতর্ক, আলোচনা ও পর্যালোচনার উন্মুক্ত পরিবেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী চর্চায় যুক্ত করার উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, জাতীয় সংসদে শিক্ষার্থীদের সংসদীয় অধিবেশন ও আলোচনা সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করে তাদের মাঝে দায়িত্বশীল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে। উপযুক্ত পরিবেশ ও দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের তরুণরাই আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পড়ুন : হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না, তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন