দুর্গাপুরে বসতঘরে মাদকের আসর: হাতেনাতে আটক ২, কারাদণ্ড

বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি সাধারণ কোনো বসতঘর নাকি অপরাধের আখড়া। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলের শান্ত পরিবেশ। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ঠিক ৫টা। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী মজিবনগরের একটি বাড়িতে হঠাৎ করেই এসে থামল প্রশাসনের গাড়ি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাধারণ ওই বাড়িটিতেই হানা দিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের একটি দল।

বাড়িটির মালিক মো. আল আমিন। ঘরের দরজা খুলতেই দেখা গেল অনাকাঙ্ক্ষিত এক দৃশ্য। নিজ বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে রীতিমতো মাদকের আসর সাজিয়ে বসেছেন তিনি এবং তার এক সহযোগী। প্রশাসনের আকস্মিক অভিযানে হতভম্ব হয়ে পড়েন তারা। পালানোর কোনো সুযোগ না থাকায় ঘরের ভেতর থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয় দুজনকে।

আটককৃতরা হলেন মজিবনগর গ্রামের মো. হারিস মিয়ার ছেলে ও বাড়ির মালিক মো. আল আমিন (৩৮) এবং একই গ্রামের মো. ফজল হকের ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৬)।

মাদকবিরোধী অভিযানের পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান। সমাজকে মাদকের বিষবাষ্প থেকে দূরে রাখার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করেন।

অপরাধের সত্যতা, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং আসামিদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। নিজ বসতঘরে মাদকের আসর বসানো ও সেবনের দায়ে প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুইশো টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, তার সহযোগী মো. রাকিব মিয়াকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার রাতেই কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ পরিবারের ঘরের ভেতর এমন মাদকের আসর বসে- এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মজিবনগর এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তবে প্রশাসনের এমন তড়িৎ ও জিরো-টলারেন্স পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সচেতন মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হতে হবে, তবেই সমাজ থেকে নীরব ঘাতক মাদককে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মোহনগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান, মালামাল জব্দ করে নিলাম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন