ভেদরগঞ্জে শিক্ষক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার(৪০) লাশ উদ্ধারের পর হত্যা মামলায় ৪ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এ সময় চুরি হওয়া ভিকটিমের অপ্পো মোবাইল ফোনসহ ২ টি ফোন, এবং একটি সিম কার্ড ও একটি ভাংগা ইমিটাপ কিটনাশকের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক কি কারনে বা কিভাবে মারা গিয়েছে সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেনি।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মধ্যে সর্বশেষ গত বুধবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ভেদরগঞ্জ থানায় আসামিকে দেয়া হয়।

গ্রেপ্তার আতাউর রহমান সোনাইমুড়ী উপজেলার আফুলশী মিয়াবাড়ি এলাকার ছালেহ আহম্মদের ছেলে। তিনি ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় , গত ১৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবুল বাশারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ভেদরগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশ।

ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে তানমুন ইসলাম রাফি (৩০), আব্দুর রব হাওলাদার (৫৩) ও মো. রায়হানকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের দুজনের বাড়ি ভেদরগঞ্জ পৌরসভা ও একজনের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলায়।

হোটেল ম্যানেজার আতাউর রহমান জানায়,ওই শিক্ষক ১৮ অক্টোবর বিকেলে হোটেলের পশ্চিম সাইডের দক্ষিণ কর্নারে রুমটি ৩৫০ টাকায় ভাড়া নেয়। সেদিন রাতে ওই শিক্ষক আবুল বাসার ভিতর থেকে দু দুবার অনেক আওয়াজ আসে। আমি ঢুকে দেখি দরজায় চেয়ার দিয়ে ঠেকিয়ে। আটকানো।পরে শিক্ষক আবুল বাসার বিছানায় একবার উল্টিয়ে পড়ে যায় আর একবার উঠে অনেক ধপাধাপি করেছে। কিন্তু আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি প্রথম।দ্বিতীয়বার যখন আমি রুমটিতে ঢুকি তখন দেখি শিক্ষক শুয়ে আছে কোন কথাবার্তা বলে না। আমি ভয় পেয়ে নোয়াখালীতে আমার বাড়িতে চলে গিয়েছি।

অন্যদিকে আব্দুর রব হাওলাদার আনমুন ইসলাম রাফির কাছে ইয়াবা বিক্রি করেছে ওই হোটেলে, আর তানমুন রাফি ওই হোটেলে আরেকটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। যখন ম্যানেজার নোয়াখালী চলে যায়। তখন তানমুন রাফি ম্যানেজারকে খুঁজতে গিয়ে পাশের রুমে ওই শিক্ষককে শুয়ে থাকতে দেখে তার মোবাইলটি নিয়ে সিম খুলে তানমুন রাফির মোবাইলে ভরে ওই শিক্ষকের স্ত্রীর কাছে ২০০০ টাকা দাবি করে।এর হোয়াটস অ্যাপে পরে ২০ হাজারও দাবি করে।কিন্তু স্ত্রীর কাছে কোন সাড়া না পেয়ে সে মোবাইলটি বন্ধ করে। শরীয়তপুরে একটা মোবাইলের দোকানে মোবাইলটি দুই হাজার টাকায় বিক্রি করে এখানে একটি হোটেল ভাড়ায় উঠে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রাফিকেসহ ওই তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভেদেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল বাশার বলেন, এসআরবি ৮ হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করেছে। আমরা ভেদেরগঞ্জ থানা পুলিশ বাকি তিনজন আসামিকে ধরতে সক্ষম হই। আসামি চারজনকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা তদন্ত চলমান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নোয়াখালীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী পদযাত্রায় নির্বাচনী উৎসব

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন