রাজধানীর দক্ষিণখানে ব্যাংক বন্ধককৃত জমি দখলের চেষ্টা, ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে ২৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন করেন জমির প্রকৃত মালিক মোঃ মুজিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ভূমিদস্যু মোখলেছুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন ও আলামিন সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে তার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে।
ঢাকার দক্ষিণখান থানার উত্তরখান মৌজায় (নতুন থানার সামনে ও পেছনে) অবস্থিত এই জমিটির মূল মালিক ছিলেন ব্রজেন্দ্র কুমার সেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত জমির বিবরণী থেকে জানা যায়, কয়েক হাত বদল ও আম মোক্তার দলিলের পর ২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাফ কবলা দলিল নম্বর-১০৩৯৩ মূলে মো. মুজিবুর রহমান ১৩১.৩৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটি ক্রয়ের পর তিনি নিজ নামে সম্পূর্ণ খারিজ (নামজারি) সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেন।
ভুক্তভুগি বলেন, ২০০৯ সালের মে মাসে মুজিবুর রহমান এই সম্পত্তি মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, মিরপুর ১০ নং শাখায় মর্টগেজ (বন্ধক) রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। মোট ৮০ কাঠা জমির মধ্যে ৩০ কাঠা জমি এলএ (LA) কেসের মাধ্যমে সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়। অবশিষ্ট ৫০ কাঠা জমি ব্যাংকে বন্ধক থাকা অবস্থাতেই একটি চক্র অবৈধভাবে নিজেদের নামে খারিজ করে নেওয়ার চেষ্টা করে। মুজিবুর রহমান এসিল্যান্ডের (AC Land) কাছে মামলা দায়ের করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর নিজের পক্ষে রায় পান।
জমি বিক্রিতে বাধা, চাঁদা দাবি ও সশস্ত্র সংঘর্ষ
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার কারণে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মুজিবুর রহমান জমিটি বিক্রির উদ্দেশ্যে দুটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। সাইনবোর্ড দেখার পর ১নং বিবাদী মোখলেছুর রহমান জমির মালিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে জমি বিক্রি করতে দেবেন না বলে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ গোরস্থান রোড এলাকায় একটি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোখলেছুর রহমান (৫৪), সাজ্জাদ (২৭), আল আমিন হোসেন শান্ত (২৮), চাপাতি সুমন (২৯) সহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ আনা হয়। এই হামলায় মুজিবুর রহমানের ভাতিজা মোঃ সাইফুল ইসলাম বাবু আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী শামীমা আক্তার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে এই জমি নিয়ে থানায় অভিযোগ হলে, পুলিশের এলএ (LA) সেকশন থেকে ২২টি দলিল যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, মুজিবুর রহমানের দলিল ও মালিকানাই সঠিক। অন্যদিকে, চাঁদা দাবি করা দখলদার চক্র বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
বর্তমানে উল্লেখিত ভূমিদস্যুরা অবশিষ্ট ৫০ কাঠা জমি দখলের জন্য হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় এবং অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পড়ুন : পিএইচপির চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বন্ধ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট


