কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্ত থেকে বের হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুন টানা চার দিন ধরে জ্বলছে। আগুনের কালো শিখা দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেলজাতীয় পদার্থের উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আগামী ১৫ দিন গ্যাস উদ্গিরণ ও আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এ সময় গ্যাসের প্রকৃতি, আগুনের শিখা ও ভূগর্ভস্থ মজুতের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।
পেট্রোবাংলার পরিচালক ও অপারেশন অ্যান্ড মাইনস প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, আগুনের কালো শিখা থেকে গ্যাসের সঙ্গে তেলজাতীয় পদার্থ থাকার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এটি ভূগর্ভের অগভীর কোনো গ্যাসের মজুতের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে রিলিফ ওয়েল খননের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বাপেক্সের মাধ্যমে সেখানে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ (থ্রিডি সিসমিক সার্ভে) করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রয়োজনে রিলিফ ওয়েল খননের কাজও তারা করতে পারবেন।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস উদ্গিরণস্থলের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার থেকে সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার সুপারিশ অনুযায়ী, ৫০ মিটার রেড জোন, ১০০ মিটার নো ফায়ার জোন এবং ২০০ মিটার অবজারভেশন জোন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানীর একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্ত থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেখানে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে টানা চার দিন ধরে আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
পড়ুন:টাঙ্গাইলে নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার
ইমি/


