ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী লালন, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, হলফনামায় তথ্য জালিয়াতি এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন সমমনা গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।
রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন, এমপি মাজেদ বাবু এলাকায় সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় সংসদ সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স’ উল্লেখ করেন। আবার ২০২৬ সালে তার হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘এমবিএ’ দেওয়া হয়েছে।
দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও অত্র এলাকার একজন সন্তান হিসেবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে আমি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তার হলফনামার কপি সংগ্রহ করি। প্রশ্ন হচ্ছে যে, একজন ব্যক্তি যিনি ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাশ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পাশই
ছিলেন, সেই তিনি ২০১৮ সালে এসে কীভাবে ও কোথা থেকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বনে গেলেন সে বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলেই আমি মনে করি। যারই ফলশ্রুতিতে আমি তার হলফনামায় প্রদত্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের কপি চেয়ে ২০০৯সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করি।
পলাতক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগসাজশে বিমানবন্দরের টার্মিনাল নিয়ে চার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও প্রতারণার দায়ে এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চারটি মামলা রয়েছে। মামলার নম্বরগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- ৮২/২০২৫, ৮৩/২০২৫, ৮৪/২০২৫ এবং ৮৫/২০২৫
উল্লেখ্য যে, এমপি মাজেদ বাবুর কোম্পানীর নাম হচ্ছে ‘অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল।’ বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কাজের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের কারণে তারিক সিদ্দিকী, বিমানের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও এমপি মাজেদ বাবু সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়েরকৃত মামলাগুলো বর্তমানে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে যে, এতোবড় একজন দুর্নীতিবাজ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মাফিয়া বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দল থেকে কীভাবে মনোনয়ন পেল।
উল্লেখ্য যে,সমগ্র দেশের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাদক ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশে ক্যাসিনোর যিনি প্রধান সাজ্জাদুর রহমান ওরফে পলাশ, পিতা- শাহজালাল (সাবেক চেয়ারম্যান, বরহিত ইউনিয়ন) তিনি এমপি মাজেদ বাবুর খাস লোক। তিনি দুবাই থেকে দেশের সকল ক্যাসিনো গুলো নিয়ন্ত্রন করেন। এমনকি বিগত ২৩/১০/২৬ ইং তারিখে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং সরিষা ইউনিয়নের সরিষা গ্রামে অত্র উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চারটি মাদক-ক্যাসিনো মামলার আসামী রিয়াদুল আলম শাহীনকে পুলিশ গ্রেফতার করলে পরে এমপি মাজেদ বাবুর একান্ত কাছের লোক সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী যুগ্ম-আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান তার লোকজনকে নিয়ে আটককৃত রিয়াদুল আলম শাহীনকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনেন যা বাংলাদেশের সকল মিডিয়াতে প্রচারিত হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এমপি এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য-সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনির সন্ত্রাসী বাহিনী ঈশ্বরগঞ্জের মানুষকে জিম্মি করে মাদক, ক্যাসিনো,দরবার বাণিজ্য এবং উপজেলায় খাল খনন সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সাইদুর রহমান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রধান মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জে ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি


