সিলেট টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের অসাধারণ সেঞ্চুরি

সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রান করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট অভিষেকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। জাতীয় দলের হয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে এবার সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই দলের ইনিংসের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। ক্যারিবীয় বোলারদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ব্যাটার।

বিজ্ঞাপন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের মিরপুর টেস্টে যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ের কারণে হেরে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটে আয়োজিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও সেই হতাশার চিত্র বদলায়নি। দলের অন্য ব্যাটাররা বড় কোনো ইনিংস উপহার দিতে ব্যর্থ হলেও হৃদয়ের দৃঢ়তায় দলীয় সংগ্রহ দুইশ রান পেরিয়েছে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২০৫ রান। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসের স্কোরের চেয়ে দল এখনও ১৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

ইনিংসের ১৭১তম বলে ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেন হৃদয়। সেঞ্চুরি পূরণের পর হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে নিজের স্মরণীয় এই অর্জন উদযাপন করেন তিনি। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের জন্য এটি বড় সান্ত্বনা হলেও লিড নিতে হলে বাকি ব্যাটারদেরও অবদান রাখতে হবে। বিরতিতে যাওয়ার আগে হৃদয় ১৭১ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইনিংসে স্বাগতিকদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে (৩৪ রান)।

এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকের অহেতুক একটি শটে সেই জুটি ভেঙে যায়। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রানে ফেরেন মুশফিক। এর ফলে হৃদয়ের সাথে তাঁর জুটি থামে ৭৩ রানে।

এরপর উইকেটে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন লিটন দাস। দুটি বাউন্ডারি হাঁকালেও তাঁর এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিয়ে ফাঁদ পাতেন ওয়ারিকান। ফুল লেংথ ও অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মুশফিকের মতোই কাভারে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। এরপর হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজের জুটি কিছু আশা জাগালেও তা ৪১ রানে শেষ হয়।

বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলার চেষ্টা করেন। তবে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় বল আকাশে উঠে যায় এবং প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ লুফে নেন জাস্টিন গ্রিভস। ১৬ রান করে মিরাজ আউট হওয়ার মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন হাসান মাহমুদও। ওয়ারিকানের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটের আলতো ছোঁয়ায় উইকেটরক্ষকের তালুবন্দী হন তিনি। দলীয় ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে হৃদয়ের সাথে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম।

পড়ুন : জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন