শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তানহা আক্তার (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রবিউল ফকির (২১) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১ নভেম্বর সকালে উপজেলার উত্তর কোদালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় তানহার ভাই মো. জুয়েল গাজী গোসাইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর কোদালপুর খালেক সরদার কান্দি এলাকার তানহা আক্তার স্থানীয় খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী। প্রায় এক বছর ধরে মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে রবিউল ফকির তাকে উত্ত্যক্ত ও অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানালে রবিউলকে সতর্ক করা হয়। এরপরও তিনি তানহার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ।
গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে তানহা মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। ইটভাটার সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে রবিউল ফকিরসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তানহার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তানহার ভাই জুয়েল গাজী বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনো আমার বোন ও রবিউলকে উদ্ধার করা হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত তাদের উদ্ধার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
রবিউলের বাড়িতে গিয়ে তার বোন আসমাকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘বাবা-মা ও রবিউল বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে জানি না। তানহাকে রবিউলের সঙ্গে তিন দিন আগে দেখেছি। এখন কোথায় আছে, জানি না।’
এদিকে রবিউলের পক্ষের মুরব্বি শাহাজালাল মোল্যা বলেন, ‘তারা দুজন সম্পর্ক করেছিল। এ নিয়ে আমরা কয়েকবার দরবার করেছি। সর্বশেষ তানহাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আবার শুনছি, মেয়েটি হয়তো ছেলেটির কাছে চলে এসেছে।’
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে-ছেলের বিষয়ে আদালতের বাইরে সালিশ করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়ে ভালো না, এখন আমরা কী রায় দেব। ছেলের কোনো দোষ নেই। বিষয়টি আমরা মিট করব।’
গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামসুল আরেফীন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করছে। ছেলে-মেয়েকে খুঁজে বের করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ছেলে একসাথে থাকতেও আইনগত বাধা আছে।
পড়ুন : ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়েই নব্বই ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান: এমপি কালাম


