নিকুঞ্জের যে ৭ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চায় কল্যাণ সোসাইটি

রাজধানীর নিকুঞ্জে সড়ক, ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার প্রবণতা যেন কিছুতেই থামছে না। বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দখল ফিরে আসার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ফুটপাতজুড়ে দোকানপাট, কোথাও সড়কের ওপর ভাসমান ব্যবসা, আবার কোথাও এলাকার একমাত্র খেলার মাঠের চারপাশে ক্রমাগত দখল বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

এ পরিস্থিতিতে নিকুঞ্জের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।

এর আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছিল।

তবে সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হলেও ডিএনসিসির অভিযানের বিষয়ে এখনো আশাবাদী সোসাইটি। সংগঠনটির প্রত্যাশা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যেকোনো সময় নিকুঞ্জের চিহ্নিত স্থানগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।

সোসাইটির বক্তব্য, সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবি থেকে তারা সরে আসেনি।

বরং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে। শুধু সাময়িকভাবে দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া নয়, সড়ক, ফুটপাত ও সরকারি জায়গা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটির দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে পরিচয়নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উচ্ছেদ অভিযান হয়, দখলদাররা ফিরে আসে কীভাবে?

নিকুঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযানের পর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে আবারও দখল ফিরে আসে।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরবর্তী সময়েও এলাকাটির বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২১ জুন নিকুঞ্জ-২-এর ১/এ নম্বর সড়কে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসি। সেদিন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়। অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, উচ্ছেদের পর সেই জায়গাগুলো আবার দখলের সুযোগ পায় কীভাবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি কোথায়? সরকারি জায়গা পুনর্দখলের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন?

বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি অর্থ, জনবল ও প্রশাসনিক সময় ব্যয় করার পরও যদি একই জায়গায় আবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে, তাহলে সেই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সোসাইটির বক্তব্য, এবার আর উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের পুরোনো চক্র চলতে দেওয়া যাবে না। উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দখলের অভিযোগ
নিকুঞ্জের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড, পরিচয় ও প্রভাবের আড়ালে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সোসাইটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দখলের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে কখনো অসৌজন্যমূলক আচরণ, আবার কখনো হুমকির মুখেও পড়তে হয়। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সোসাইটির অবস্থান পরিষ্কার—রাজনৈতিক সাইনবোর্ড বা পরিচয় কিংবা প্রভাব কোনো অবৈধ দখলের বৈধতা দিতে পারে না। সরকারি সম্পত্তি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটি আবাসিক এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করবেন, আর সাধারণ মানুষ নিজের এলাকায় নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

যে সাতটি স্থানে উচ্ছেদ অভিযান জরুরি

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাতটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব স্থানে ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ, অঞ্চল-১ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

১. নিকুঞ্জ-১-এর ২ নম্বর গেট (বিআরটিসি-সংলগ্ন প্রবেশপথ)

নিকুঞ্জ-১-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে অন্তত এক ডজন অবৈধ দোকান গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। প্রবেশপথের সড়ক ও ফুটপাতের ওপর এসব দোকানের অবস্থান স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সোসাইটির দাবি, প্রবেশপথের ফুটপাত ও সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

২. নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও বটতলা

নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও বটতলা এলাকায় সড়ক এবং ফুটপাতের ওপর দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে বটতলা ও এর চারপাশের ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা । এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত বেইমান আলীর নিয়ন্ত্রণে এসব ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট পরিচালিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত কীভাবে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পায়?

এসব স্থাপনার পেছনে আরো কারা কারা রয়েছে এবং কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, বা কোন নেতার প্ররোচনা বা শেল্টারে বেঈমান আলীরা এমন জনগণের রাস্তা দখল করে দোকান বসায় তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ।

জনগণের দাবি, বটতলা ও এর চারপাশের প্রতিটি ফুটপাত সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিবেচনা না করে জনসাধারণের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে হবে।

৩. পেট্রোবাংলার উত্তর-পশ্চিম পাশের এলাকা
এ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের দখল পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি জায়গা কিংবা জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে কোনো স্থাপনা থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করতে হবে।

৪. নিকুঞ্জ-২-এর ১/এ নম্বর সড়ক
গত ২১ জুন এ সড়কে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু অভিযানের সুফল ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

সোসাইটির দাবি, আগের অভিযানে দখলমুক্ত করা স্থানগুলো পুনরায় দখলের চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পরীক্ষা করতে হবে। নতুন করে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. রাজউকের পেছনের কবি ফররুখ সরণি
নিকুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ও ফুটপাতের দখল পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সোসাইটি।

সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
৬. নিকুঞ্জের একমাত্র খেলার মাঠের চারপাশ
এটি নিকুঞ্জের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি। স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান এবং এলাকার একমাত্র খেলার মাঠের চারপাশে হকার ও দোকানপাটের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সোসাইটি।

অভিযোগ রয়েছে, মাঠসংলগ্ন জায়গায় প্রতিদিন একটু একটু করে দোকানপাটের বিস্তার ঘটছে। শুরুতে সামান্য জায়গায় ব্যবসা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোসাইটির বক্তব্য, একটি আবাসিক এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ কোনোভাবেই বাণিজ্যিক দখলের শিকার হতে পারে না। মাঠের চারপাশের সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাঠের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

৭. নিকুঞ্জের ১৩ নম্বর সড়কের মোড় থেকে সিটি হসপিটাল পর্যন্ত

এ সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশে হকার ও ভাসমান দোকানের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোসাইটির দাবি, এ সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল অপসারণ করতে হবে।

সোসাইটির মতে, সাতটি স্থানে সমন্বিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলে পথচারীদের চলাচল সহজ হবে, সড়কের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়বে এবং আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেয়ে উচ্ছেদের সুফল ধরে রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

কারণ, উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি না থাকলে আগের দখলদারদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।

ফলে সরকারি অর্থ ও প্রশাসনিক শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোসাইটি কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রথমত, উচ্ছেদের পর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দখলমুক্ত সড়ক ও ফুটপাতের ছবি, ভিডিও এবং অবস্থান নথিভুক্ত করে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

পুনর্দখলের চেষ্টা দেখা দিলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা, নিয়মিত প্রশাসনিক টহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাবও দিয়েছে সোসাইটি।

এ ছাড়া বৈধ ব্যবসা ও অবৈধ দখলের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোসাইটির মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ডিএনসিসি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ডিএনসিসির প্রশাসকের ঘোষণার বাস্তবায়ন চান নিকুঞ্জবাসী

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সাম্প্রতিক অবস্থানও নিকুঞ্জবাসীর প্রত্যাশাকে জোরালো করেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি ঘোষণা দেন, জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে আগাম নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরবর্তী সময়েও তিনি দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল করা হলে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।
নিকুঞ্জবাসীর প্রশ্ন, ডিএনসিসির প্রশাসকের এই ঘোষণা বাস্তবায়নে নিকুঞ্জ কেন অগ্রাধিকার পাবে না? একই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় যদি দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাহলে নিকুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বাধা কোথায়?

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসকের ঘোষণার প্রতিফলন নিকুঞ্জেও দৃশ্যমান হবে।

শুধু হকার উচ্ছেদ নয়, দখলের নেপথ্যও খুঁজতে হবে
সোসাইটির মতে, ফুটপাত ও সড়ক দখলের সমস্যাকে শুধু ভাসমান দোকান সরানোর বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এসব স্থাপনা কীভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠে, কারা ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেয় এবং উচ্ছেদের পর কারা আবার সেখানে ফিরে আসে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অবৈধভাবে সরকারি জায়গা ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা আদায় করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ী ও অবৈধ দখলদারদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে বৈধ বিকল্প ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু জীবিকার অজুহাতে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ডিএনসিসির অভিযানের অপেক্ষায় নিকুঞ্জবাসী

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্ছেদ অভিযানের দাবিতে তারা এখনো আশাবাদী।

৭২ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও ডিএনসিসি যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করতে পারে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

সোসাইটির দাবি, বিষয়টি যেন প্রশাসনিক আশ্বাস কিংবা কাগুজে সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট অঞ্চল-১ ও সম্পত্তি বিভাগকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংগঠনটির মতে, নিকুঞ্জের সড়ক, ফুটপাত ও খেলার মাঠ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক দখলে থাকার জন্য নয়। এসব জায়গা জনগণের। তাই দখলদার যে পরিচয়েরই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোসাইটির প্রত্যাশা, খুব শিগগিরই ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলমুক্ত হবে চিহ্নিত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আর এবার উচ্ছেদের পর যেন পুনর্দখলের পুরোনো চিত্র ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিকুঞ্জবাসীর দাবি খুবই স্পষ্ট—উন্নয়ন চাই, কিন্তু জনস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়। ব্যবসা-বাণিজ্য চলুক, তবে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়।

সরকারি জায়গা সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই থাকুক, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে পরিণত না হোক।

নিকুঞ্জের সড়ক, ফুটপাত ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত হোক। ফিরে আসুক একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকার পরিবেশ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হবিগঞ্জে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মদ জব্দ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন