ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা গাজা উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ শহর রাফাহ পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শহরটির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আইডিএফ দাবি করছে, তারা ‘মোরাগ করিডর’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা খান ইউনিস ও রাফাহ শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চলের সংযোগস্থল।
এই করিডরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে রাফাহ শহরটি গাজার বাকি অংশ থেকে আলাদা হয়ে গেছে এবং এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠেছে। শহরটি ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল ছিল বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য, যাদের প্রায় সাড়ে ১৫ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, রাফাহের দখল উপত্যকাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি একটি শেষ সুযোগ, যেখানে তারা যুদ্ধ বন্ধ করে হামাসকে বিতাড়িত করতে পারে এবং সব জিম্মি মুক্ত করতে পারবে। কাটজ আরও হুমকি দিয়েছেন যে, যদি গাজার বাসিন্দারা এই শর্ত মেনে না চলে, তবে ইসরায়েলি বাহিনী বাকি অংশেও অভিযান শুরু করবে।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অপসারণের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা উল্লেখ করে কাটজ বলেন,
যারা স্বেচ্ছায় অন্য দেশে চলে যেতে চায়, তাদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নেটজারিম করিডরও সম্প্রসারণ করা হবে, যা গাজা উপত্যকাকে আরও বিভক্ত করবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মোরাগ করিডর এলাকার নিয়ন্ত্রণে আসার পর তারা সেখানে নিরাপত্তা স্থাপন করবে এবং রাফাহ শহরের অভ্যন্তরে আরও অগ্রসর হবে, যাতে এটি একটি ‘সীমান্ত বাফার জোন’ হিসেবে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। মোরাগ করিডরের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ অংশে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ৫০ হাজার ৯১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে বসবাসের অবস্থা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের দখলদারি অব্যাহত রেখেছে, যা গাজা উপত্যকায় এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করছে।
পড়ুন: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঢাকার ‘মার্চ ফর
দেখুন: মার্চ ফর গাজা: ফেরার পথে গাজীপুরে দোকান ভা*ঙ*চু*রের অভিযোগ! |
ইম/


