চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় গভীর রাতে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ও থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারীতলসহ বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারীতল এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে জুয়ার আসর বসিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ এর ৪ ধারায় তিনজনকে প্রত্যেককে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. আজম (পিতা: মৃত আবু তাহের), মো. কামাল (পিতা: মো. শাহ আলম) এবং মো. নাজিম উদ্দিন (পিতা: মৃত আবুল খায়ের)।
অভিযান পরিচালনা করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
অন্যদিকে একই রাতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন মামলায় আরও ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে মাদক মামলায় ৪ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জন রয়েছেন। এছাড়াও অভিযানে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার/আটকের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
রাতভর এ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয় এবং অপরাধ দমনে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করে।
সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় গভীর রাতে জুয়ার আসর ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে অপরাধ, মাদক, জুয়া ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর থাকবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন: ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা না করার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা সৌদির: প্রতিবেদন


