বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ এবার বিশেষভাবে নজর কাড়ছে বাংলাদেশের চারটি চলচ্চিত্র। ভিন্ন ভিন্ন গল্প, সমাজবাস্তবতা ও মানবিক অনুভূতির উপস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পাচ্ছে এসব সিনেমা। বাংলাদেশের নির্মাতাদের এই সাফল্য দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘অপেক্ষা’ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ
নির্মাতা কাজী আরেফিন আহমেদ পরিচালিত ‘অপেক্ষা’ চলচ্চিত্রটি স্মৃতিভ্রংশ ও পারিবারিক বিচ্ছেদের আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত। মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন তুলে ধরা এই সিনেমাটি কান ডকস বিভাগে আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির গল্প ও নির্মাণশৈলী ইতোমধ্যেই বিদেশি দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে ‘মাই কাজিন’
নির্মাতা সুমন দেলোয়ার পরিচালিত ‘মাই কাজিন’ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে একজন এইচআইভি আক্রান্ত প্রবাসীর দেশে ফেরার গল্প। সমাজের প্রচলিত ট্যাবু, একাকীত্ব ও বাস্তব সংকটকে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরায় সিনেমাটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শেকড়ের সন্ধানে ‘ইন সার্চ অব হার’
এস এম কামরুল আহসান নির্মিত ‘ইন সার্চ অব হার’ চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে বিদেশে দত্তক যাওয়া শিশুদের নিজেদের শেকড় খুঁজে ফেরার গল্প। পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানভিত্তিক এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
নারীর সংগ্রামের গল্প ‘ব্লু-কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’
নির্মাতা চিত্ত আনন্দী পরিচালিত ‘ব্লু-কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’ চলচ্চিত্রে তিন প্রজন্মের নারীর জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। নারীকেন্দ্রিক গল্প ও শক্তিশালী উপস্থাপনার কারণে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এই চারটি সিনেমার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের চলচ্চিত্র আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। বাংলাদেশ এর গল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপনকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য গর্বের এক অধ্যায়।
পড়ুন : কানের লালগালিচায় ঝলমলে অদিতি রাও, নজর কাড়লেন গ্ল্যামারাস লুকে


