মৌলভীবাজারে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। সড়ক, কালভার্ট, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্যানিটেশন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জি আর (চাল-ক্যাশ), গৃহ নির্মাণ ঢেউটিন, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য ও শুকনো অন্যান্য খাবারের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মৌলভীবাজারের সদর, রাজনগর ও কমলগঞ্জে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই তিন উপজেলা প্লাবিত হয়ে ভেঙে ও বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, ফসলি জমি, গবাদিপশুর পাশাপাশি রাজনগর এলাকার ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৯০ কিলোমিটার বিভিন্ন গ্রামীণ আধাপাকা সড়ক ও ৫টি কালভার্ট। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় চার হাজার পরিবার। আশ্রয় কেন্দে উঠেন দুই হাজার পরিবার।
জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে উন্নতির দিকে আছে, সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নীচদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাসাবাড়ির পানিও কমতে শুরু করেছে, তবে অনেক নীচু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েগেছে, সড়ক-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব এলাকায় চলাচল আর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
রাজনগরের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছরে আমরা বারবার একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি, এ দুর্ভোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে ত্রাণ নয়, স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দিন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান, মনু নদীর ১টি ও ধলাই নদীর ১টি স্থানে ভাঙনের ফলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়, এখনও মনুর ৩টি ও ধলাই নদীর ৭টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ আছে। পানি নামার পর বরাদ্ধ আসলেই তা মেরামতের কাজ শুরু হবে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন বেশি জরুরি, ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে, আমরা শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করছি, মন্ত্রণালয়ে একটি জি আর চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি এ সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে, ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক তথ্য নেয়া হচ্ছে, বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।
প্রসঙ্গত, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গত ৮ জুলাই (বুধবার) রাত থেকে বন্যা দেখা দেয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েন জেলার সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার হাজারও মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারান ১জন। বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পড়ুন : শীতলক্ষ্যায় কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ ফায়ার কর্মী সাদিক


