বিজ্ঞাপন

স্যান্ডেলের ভেতর লুকানো ২১০০ পিস ইয়াবাসহ নেত্রকোনায় মাদক কারবারি আটক

পায়ে পরিধান সাধারণ বার্মিজ স্যান্ডেল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সর্বনাশা মাদক। অভিনব এই কায়দায় স্যান্ডেলের ভেতর বিশেষ চেম্বার তৈরি করে ইয়াবা পাচারকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় কুখ্যাত এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার কাছ থেকে দুই হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য আট লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির হলেন- মো. রনি মিয়া (২৮)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানাধীন রামগোপালপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বর্ধনপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হামিদ ও শিল্পি বেগম দম্পতির ছেলে।

ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (শুক্রবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে কেন্দুয়া থানাধীন মাসকা ইউনিয়নের মাসকা বাজারে কেন্দুয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় ডিএনসি। জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে রেইডিং টিমের সদস্যরা সেখানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাতে থাকেন।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রনি মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবার সন্ধান পায় অভিযানকারী দল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আসামির পায়ে থাকা ‍‘রানার্স চয়েজ’ নামের বার্মিজ স্যান্ডেলের ভেতর বিশেষ কায়দায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবাগুলো রাখা ছিল। এর মধ্যে ডান পায়ের স্যান্ডেল থেকে এক হাজার ১০০ পিস এবং বাম পায়ের স্যান্ডেল থেকে এক হাজার পিস কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দুই হাজার ১০০ পিস ইয়াবার ওজন ২১০ গ্রাম।

ইয়াবার পাশাপাশি আসামির ব্যবহৃত এক জোড়া বার্মিজ স্যান্ডেল এবং একটি রিয়েলমি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সকল আলামতের আনুমানিক বাজার মূল্য আট লাখ ৫৭ হাজার ১৫০ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলাটি দায়ের করবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিনব কায়দায় মাদক পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালীগঞ্জে ৩২২ পিস ইয়াবা ও ১৯ বোতল কোরেক্সসহ দুই মাদক কারবারি আটক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন