বিজ্ঞাপন

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির আগেই নতুন আলোচনায়

মার্ভেল স্টুডিওস এবং সনি পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনায় আসন্ন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’  ঘিরে ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। টম হল্যান্ড আবারও পিটার পার্কার চরিত্রে ফিরছেন এই সিনেমায়। এবার গল্প এগোবে “নো ওয়ে হোম”-এর ঘটনার পর নতুন বাস্তবতায় যেখানে কেউই আর স্পাইডার-ম্যানের পরিচয় জানে না। সবাই ভুলে গেছে তাদের স্মৃতি।

বিজ্ঞাপন

এবারের আলোচনার সিনেমার দৈর্ঘ্য বা রানটাইম নিয়ে। শোনা যাচ্ছে সিনেমাটি ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের হতে পারে।  । সিঙ্গাপুরের শ’ থিয়েটারস এবং যুক্তরাজ্যের সিনেওয়ার্ল্ড দুটি সিনেমা চেইনের তালিকায় এমনই সময় উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবে সঠিক হলে এটি এমসিইউর অন্যতম দীর্ঘ সুপারহিরো সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নেবে।

তুলনামূলকভাবে দেখা গেলে, “স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম” ছিল ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট, “ফার ফ্রম হোম” ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট এবং “হোমকামিং” ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিটের সিনেমা। এই রানটাইম সঠিক হলে এটি এমসিইউর ইতিহাসে চতুর্থ দীর্ঘতম সিনেমা হবে, যেখানে এর উপরে থাকবে শুধু “অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম”, “ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার” এবং “ইটারনালস”।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেখা যাবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন ফ্রাঙ্ক কাসল চরিত্রে জন বার্নথাল এবং ব্রুস ব্যানার/হাল্ক চরিত্রে মার্ক রাফালো। দীর্ঘ সময় পর আবারও বড় পর্দায় দেখা যেতে পারে ব্যানারের সেভেজ হাল্ক রূপও। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন। সবকিছু ঠিক থাকলে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’  মুক্তি পাবে চলতি বছরের ৩১ জুলাই।

সন্তানরা কেন বাবা-মা থেকে দূরে সরে যায়? পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে মনোবিদের ব্যাখ্যা 

বয়স্ক বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের যোগাযোগ কমে যাওয়া বা সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিরল নয়। অনেক পরিবারেই দেখা যায়, সন্তানরা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর বাবা-মায়ের খোঁজ নেন না, এমনকি কোনও কোনও  ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় যোগাযোগহীন থাকেন। আবার চরম পরিস্থিতিতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু নিয়েও সংবাদ পাওয়া যায়। প্রশ্নটি তাই বারবার সামনে আসে কেন এমন দূরত্ব তৈরি হয়? 

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি হঠাৎ ঘটে না; বরং শৈশবের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ এবং আবেগিক সম্পর্কের ধরণ ধীরে ধীরে এই বিচ্ছিন্নতার ভিত্তি তৈরি করে। চ্যানেল 24 অনলাইনের সাইকোলজিস্ট মিথীলা খন্দকার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, সন্তানদের দূরে সরে যাওয়ার পেছনে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে, যা পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে

মিথীলা খন্দকার সন্তানদের দূরে সরে যাওয়ার প্রধান সাইকোলজিকাল কারণগুলো তুলে ধরেছেন। যেসব বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো:  

১. আবেগিক অবহেলা

সন্তানের সব শারীরিক চাহিদা পূরণ হলেও তার আবেগিক চাহিদা উপেক্ষিত হতে পারে। যখন শিশুর ভয়, কষ্ট, হতাশা বা আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তখন সে ধীরে ধীরে শিখে যায় যে তার অনুভূতির কোনো মূল্য নেই। বড় হওয়ার পর এমন সন্তানেরা প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে নিরাপদ আবেগিক সংযোগ অনুভব করতে পারে না। ফলে সম্পর্কটি দায়িত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে, আন্তরিকতার জায়গা হারিয়ে যায়

২. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ববাদী প্যারেন্টিং 

অনেক পরিবারে সন্তানকে ভালোবাসার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। “আমি যা বলছি, তাই হবে”—এই ধরনের পরিবেশে শিশুর নিজস্ব মতামত, পছন্দ বা ব্যক্তিত্ব বিকশিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অনেক সন্তান স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছ থেকে মানসিক ও শারীরিক দূরত্ব তৈরি করে।

৩. সমালোচনা ও তুলনার সংস্কৃতি

“তোমার ভাইকে দেখো”, “পাশের বাসার মেয়েটা কত ভালো”—এই ধরনের তুলনা শিশুদের আত্মমর্যাদাকে আঘাত করে। বারবার সমালোচনার মধ্যে বেড়ে ওঠা সন্তান বাবা-মায়ের উপস্থিতিকে নিরাপত্তার বদলে উদ্বেগের উৎস হিসেবে দেখতে শুরু করে।

ফলে পরবর্তী জীবনে সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ কমে যেতে পারে।

৪. শর্তসাপেক্ষ ভালোবাসা (Conditional Love)

যখন সন্তান অনুভব করে যে তাকে কেবল ভালো ফলাফল, সফলতা বা বাধ্যতার বিনিময়ে ভালোবাসা হচ্ছে, তখন তার মধ্যে একটি গভীর অনিরাপত্তা তৈরি হয়।

সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে “আমি যেমন, তেমনভাবে গ্রহণযোগ্য নই।” এই অনুভূতি পরবর্তীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে আবেগিক দূরত্বের অন্যতম কারণ হতে পারে।

৫. মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক ট্রমা

নিয়মিত অপমান, ভয় দেখানো, গ্যাসলাইটিং, হুমকি, পারিবারিক সহিংসতা বা দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্ব শিশুর মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে।

এ ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষার জন্য বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাকে নিরাপদ মনে করে।

শৈশবের অভিজ্ঞতা কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে?

মনোবিজ্ঞানের Attachment Theory অনুযায়ী, শিশুর প্রথম সম্পর্ক—সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গে—তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে।

যদি শিশুর অনুভূতি শোনা হয়, ভুল করলে অপমান না করা হয়, নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় পাশে পাওয়া যায়, তাহলে তার মধ্যে Secure Attachment গড়ে ওঠে। এই ধরনের সন্তানেরা বড় হয়েও সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।

অন্যদিকে, শৈশবে অবহেলা, প্রত্যাখ্যান, অস্থিতিশীলতা বা ভয় থাকলে Insecure Attachment তৈরি হতে পারে। এর ফলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সন্তান হয় অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, নয়তো আবেগিকভাবে দূরে সরে যায়।

কোন ধরনের পরিবারে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়?
১. উচ্চ দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিবার (High-Conflict Families)

যেখানে প্রতিদিন ঝগড়া, দোষারোপ ও উত্তেজনা থাকে, সেখানে শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্যে বড় হয়।

২. আবেগ প্রকাশে অনীহ পরিবার

কিছু পরিবারে খাবার, শিক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা থাকলেও আবেগ প্রকাশের সুযোগ থাকে না। “কাঁদবে না”, “এত অনুভূতি দেখানোর কী আছে”—এই সংস্কৃতি সন্তানদের আবেগিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়।

৩. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবার

যেখানে সন্তানের পেশা, বন্ধুত্ব, বিয়ে বা জীবনযাত্রার প্রতিটি সিদ্ধান্তে কঠোর হস্তক্ষেপ করা হয়, সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দূরত্ব তৈরির প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

৪. ট্রমাপূর্ণ বা সহিংস পরিবার

শারীরিক, মানসিক বা মৌখিক নির্যাতন থাকা পরিবারে সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

৫. যেখানে ক্ষমা ও আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি নেই

কিছু বাবা-মা কখনো ভুল স্বীকার করেন না। সন্তানের কষ্টকে অস্বীকার করা বা “তোমার তো কিছুই হয়নি”—এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কের ক্ষতকে আরও গভীর করে।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিখুঁত বাবা-মা হওয়া জরুরি নয়; বরং Good Enough Parenting গুরুত্বপূর্ণ।

এর জন্য—

সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা
তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া
তুলনা বন্ধ করা
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শেখা
নিয়ন্ত্রণের বদলে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়া
সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার ব্যক্তিসত্তা ও সীমারেখাকে সম্মান করা

সন্তানদের দূরে সরে যাওয়া সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ফল নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের জমে থাকা আবেগিক অভিজ্ঞতার ফল। অধিকাংশ সন্তান সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না; তারা চায় নিরাপত্তা, সম্মান, বোঝাপড়া এবং নিঃশর্ত গ্রহণযোগ্যতা।

পরিবারের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতায় নয়, সংযোগে। আর সেই সংযোগের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই—যখন একটি শিশু অনুভব করে, তাকে শোনা হচ্ছে, বোঝা হচ্ছে, এবং সে যেমন, তেমনভাবেই গ্রহণ করা হচ্ছে।

পড়ুন:অপু বিশ্বাসের সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার ঝড়   

দেখুন:কেন পাচারের টাকা ফেরাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার? |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন