বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে ইরানে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে ইরানে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভ করেছেন বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীরা চুক্তির বিরোধিতা করে আরাগচির পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করলেও ইরানের ভেতরেই একটি অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (১৩ জুন) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বহু সংখ্যক মানুষ।

এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা কয়েকজন নারী মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে ‘অসম্মানিত আরাগচির মৃত্যু হোক, সে অনুপ্রবেশকারী’ স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা লাল ও কালো পতাকা নেড়ে প্রতিবাদ জানান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান যে শান্তি চুক্তির কথা বলছে, সেটির বিরোধিতা করছেন ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা। তাদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তেহরানের কৌশলগত সুবিধা কমিয়ে দেবে।

তারা আরও অভিযোগ করেছেন, চুক্তি নিশ্চিত করতে ইরানের আলোচকরা অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, সম্ভাব্য যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করার পর এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর এই অবরোধ আরোপ করেছিল। আরাগচি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আর আগের মতো থাকবে না।’

তিনি এই সমুদ্রপথকে ইরানের ‘প্রধান প্রতিরোধমূলক হাতিয়ারগুলোর একটি’ বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায় তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে কিছু মানুষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

তারা ‘আরাগচি, পদত্যাগ করো’ এবং ‘ঘালিবাফ, পদত্যাগ করো’ বলেও স্লোগান দেন। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তাসংস্থা এএফপি।

অবশ্য শনিবার ট্রাম্প এবং পাকিস্তান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে তেহরান তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কাটেনি অনিশ্চয়তা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন