চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়া (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তেজ বড়ুয়া আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে। নিহত এনি বড়ুয়া ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মোহাম্মদ রাসেল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার চট্টগ্রামের নির্দেশনায় ডিবি ও আনোয়ারা থানার সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে পটিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তেজ বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি জানান, সুজন বড়ুয়ার ঋণসংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে একটি চাকু নিয়ে এনি বড়ুয়ার বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিলেন। এ সময় এনি বড়ুয়া তাকে দেখে ফেললে চিৎকার শুরু করেন। তখন তিনি এনি বড়ুয়াকে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় তিনি এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।
আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে আনোয়ারার চেনামতি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এনি বড়ুয়া ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনায় নিহত এনির স্বামী সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তেজ বড়ুয়াকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।
নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, “অভিযুক্তের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তেজ বড়ুয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচারের পথ সুগম হলো। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত গোপনের চেষ্টা সত্ত্বেও পেশাদার তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


