টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় তিনি অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ।
বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনের সময় ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে।’
প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল প্রমুখ।
পড়ুন : বদলির এক মাস পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী


