রাজশাহী মহানগরীতে ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত শুরু হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পরে অভিযানটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে বর্ণালী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসময় বেশ কয়েকটি যানবাহন জব্দও করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল, অন্যদিকে নগরীতে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছিল। এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাফর আহমেদ এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম। তাদের তত্ত্বাবধানে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযান সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজটও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েঝে। এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে এবং নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে। নগরবাসীর স্বার্থে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ পুনরায় অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসীর অনেকেই। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে ফুটপাত ও সড়ক দখলের প্রবণতা কমবে এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
পড়ুন:চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
দেখুন:সুন্দরবনের শেলা নদীতে কুমিরের আ/ক্র/ম/ণে নারীর মৃ/ত্যু
ইমি/


