চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় হালদা ভ্যালি চা-বাগানের নামে ভূমিহীন পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে পেডরোলো গ্রুপের মালিক নাদের খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার আনন্দপুর এলাকার বদরখীল জামে মসজিদের সামনের সড়কে “নির্যাতিত ও সর্বস্বহারা ভূমিহীন আনন্দপুর এলাকাবাসী” ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবক অংশ নেন। তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে “ভূমিহীনদের উচ্ছেদ বন্ধ কর”, “জুলুমবাজদের বিচার চাই”, “ভূমিদস্যুদের কবল থেকে ভূমিহীনদের রক্ষা কর” এবং “বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত কর”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পেডরোলো গ্রুপের মালিকানাধীন হালদা ভ্যালি চা-বাগানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নাদের খান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তাদের জমি ছাড়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বসতভিটা উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বহু পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসলেও বর্তমানে তাদের বসতঘর ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করলেও কোনো ধরনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সলিমুল্লাহ, ইকবাল হোসেন আকিব, কামাল হোসেন জিয়া, রুহুল আমিন সরদারসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সলিমুল্লাহ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। অথচ আজ আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে আমাদের বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
ইকবাল হোসেন আকিব অভিযোগ করে বলেন, “রাতের আঁধারে এসে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
সংহতি প্রকাশ করে কামাল হোসেন জিয়া ও রুহুল আমিন সরদার বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা দাবি করেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, নিরাপত্তা এবং বসবাসের অধিকার নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে আনন্দপুর, বাদুরখীল ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন এবং ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পড়ুন : মির্জাপুরের সোহাগপুর বাজার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত


