বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক দিবসে ময়মনসিংহে অধিকারের মানববন্ধন

জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে র‌্যালী মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ময়মনসিংহ নেটওয়ার্ক।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অধিকারের ময়মনসিংহের সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক এটিএম মাহবুবুল হক, হিউম্যান ডিফেন্ডার্স সোসাইটির জেলা সভাপতি মাজহারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুল বারী, দৈনিক নয়াদিগন্তের ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার দেশের ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক জনবাণীর জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তরফদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নির্যাতন একটি সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের আমলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং রিমান্ডে নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ছাত্র-জনতার উপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন অনুমোদনের ২৮ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চারের ঐচ্ছিক প্রোটোকল অনুমোদন করে। জাতিসংঘের এসব আন্তর্জাতিক সনদ অনুমোদন বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বাস্তবে নির্যাতন প্রতিরোধে এর কার্যকর প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। দেশে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঘটনা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, দায়মুক্তির সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে নির্যাতনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়েছে। থানা, ডিটেনশন সেন্টার, কারাগার ও গোপন বন্দিশালায় মানুষ নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পুনরায় নির্যাতনের আশঙ্কায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী নীরব থাকতে বাধ্য হন।

তারা এ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের ওপর সব ধরনের বাধা ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

মানববন্ধন থেকে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দেশের সকল মানুষকে নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পাশে থাকার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সংকট পেরিয়ে নতুন যাত্রা, আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরছে ওয়েস্টার্ন মেরিন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন