বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছেন। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মাইক্রোসফটের গেমিং বিভাগ এক্সবক্সে, যেখানে ধাপে ধাপে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মী ছাঁটাই করা হবে। প্রথম দিনেই চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী।
কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান বলেন, প্রযুক্তির জগৎ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ছাঁটাই হওয়া পদগুলোতে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কর্মী প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে না। তবে এআই প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এআই-ভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছা অবসরের সুযোগ দিয়েছিল মাইক্রোসফট। যোগ্য কর্মীদের ৩০ শতাংশের বেশি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এছাড়া গত বছরও কয়েক দফায় হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা প্রযুক্তি খাতের ব্যয় সংকোচনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এক্সবক্স বিভাগের প্রধান আশা শর্মা বলেন, গেমিং ব্যবসাকে বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে একাধিক গেম স্টুডিও অধিগ্রহণ করলেও প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য আসেনি। বর্তমানে শুধু বড় প্রকাশকদের সঙ্গেই নয়, ছোট স্বাধীন স্টুডিওগুলোর সঙ্গেও তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তাই সব স্টুডিও নিজেদের মালিকানায় রাখা আর বাস্তবসম্মত নয়।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কমপালশন গেমস ও ডাবল ফাইন প্রোডাকশনসকে স্বাধীন স্টুডিও হিসেবে পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে নিনজা থিওরি ও আনডেড ল্যাবস নতুন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে মহামারির পর গেমিং বাজারে ব্যয় কমে যাওয়া এবং হার্ডওয়্যার সংকটের কারণে এক্সবক্স কনসোলের দাম ১০০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইক্রোসফট।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রান্তিকে এক্সবক্স বিভাগের আয় ৫ শতাংশ কমেছে। যদিও ২০২০ সালে বর্তমান প্রজন্মের কনসোল বাজারে আসার পর কর্মীসংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে, একই সময়ে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমেছে। তবুও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না মাইক্রোসফট। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে এক্সবক্স ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি
পড়ুন:কনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা দিলেন ‘ধুরন্ধর’খ্যাত জেসমিন
ইমি


