বিজ্ঞাপন

বৃত্তির আলোয় আবারও উজ্জ্বল মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনের বৃত্তি

একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; স্বপ্ন, শ্রম আর অধ্যবসায়ের মিলিত ঠিকানা। সেই ঠিকানার নাম মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বছরের পর বছর সাফল্যের যে প্রদীপটি বিদ্যালয়টি জ্বালিয়ে রেখেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলেও তার আলো আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবারও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন বৃত্তি পেয়ে বিদ্যালয়টির ধারাবাহিক সাফল্যের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। এর মধ্যে পাঁচজন ট্যালেন্টপুল এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো—ফাহমিদা জান্নাত নওরিন, আফনান রহমান নিহা, রাকাত মনি, মো. রাইয়ান ইসলাম ও আসোয়াত ইসলাম তাফসির।
সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে জাকিয়া সুলতানা, রাইসা নূর, মারিয়াম নূর ইন্তু, শতাব্দী পাল, রিতু আক্তার, সামিরা আক্তার, সোনিয়া আক্তার, নাদিয়া আক্তার লিমু, অর্পিতা ঘোষ বৃষ্টি, মো. তাসকিন আহমেদ, ওমর ফারুক পরশ ও জারিফ ইসলাম।

এই সাফল্য হঠাৎ পাওয়া নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত পাঠদান, শিক্ষকদের নিবেদন, শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা।

এর আগে ২০২২ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিল। সে সময় ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন ট্যালেন্টপুল ও ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা—উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।
করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই বছরে চারজন ট্যালেন্টপুল ও ছয়জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে বিদ্যালয়টি উপজেলায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় সেই সাফল্যের ধারাই অক্ষুণ্ন রাখল বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল কৃতিত্ব শিক্ষার্থী ও তাদের সচেতন অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাস, সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন, বাড়ির পড়াশোনার তদারকি এবং অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্য অন্য বিদ্যালয়গুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
প্রতিটি সাফল্যের পেছনে থাকে অগণিত নীরব শ্রমের গল্প। মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অর্জনও তেমনই এক গল্প—যেখানে শ্রেণিকক্ষের প্রতিটি পাঠ, শিক্ষকের প্রতিটি উৎসাহ আর অভিভাবকের প্রতিটি প্রত্যাশা মিলেমিশে তৈরি করেছে নতুন এক আলোকিত ভবিষ্যতের পথ।

পড়ুন:ঝিনাইদহে ৫৮ বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

ইমি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন