সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠেছে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে একই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অধীনস্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, সামান্য দেরি হলেও তাদের শোকজ করা হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) কাজী সাইফুল ইসলাম তখনও অফিসে পৌঁছাননি। তিনি সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে কার্যালয়ে আসেন।
এ সময় অফিসে উপস্থিত ছিলেন না তিন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে,অফিস সহায়ক সাগর হোসেন জানান, দুই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব প্রশিক্ষণে রয়েছেন। আর অজয় কুমার দাস চরাঞ্চলে ভিজিটে গিয়েছেন।
এ বিষয়ে অজয় কুমার দাসের সঙ্গে সকাল দশটার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ফরিদপুরে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। সেখানে বৃষ্টি হওয়ায় তিনি অফিসে যেতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরিরামপুরের কয়েকটি চরাঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শনে যেতে পারেন। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ছুটিও নিতে পারি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলেন, টিইও এবং এটিইওরা অনেক সময়ই নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না। অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৯টার আগেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন। কয়েক মিনিট দেরি হলেও তাদের বিরুদ্ধে শোকজসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অথচ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ রবিবার হওয়ায় একটু দেরি হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও এমন হয়েছে।’
অন্যদিকে অনুপস্থিত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অজয় কুমার দাস চরাঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেছেন এবং অপর দুই কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল দেবনাথকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি আধা ঘন্টা পর পুনরায় কল দেওয়ার অনুরোধ করেন। এক ঘন্টা পর তাকে একাধিক বার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এ ঘটনায় সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যারা নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি জরুরী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


