চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চার মামলার আসামি ও স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরান (৫০) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পরিচিত ছিলেন ইরান। সম্প্রতি ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত ২০ জুলাই রাতে নাইম (৩০) নামে এক যুবককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সিএনজি স্টপেজ এলাকায় এবং পরে নিজস্ব গোডাউনে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাইমকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত নাইমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে ইরানকে প্রধান আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাইমের মৃত্যুর পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার নাইমের জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে ইরানের এক সহযোগীকে মারধর করে। পরে একটি ঘরে আত্মগোপনে থাকা ইরানকে বের করে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এছাড়া কয়েক মাস আগে ইয়াবা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শামীম নামে আরও এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসা পরিচালনায় তিনি পুলিশের অসাধু কিছু সদস্যের সহযোগিতা পেতেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত ইরানের স্ত্রী খালেদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নাইমকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। তিনি বলেন, “আমার স্বামী অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া কেন?”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, নাইম হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, শনিবার রাতে গণপিটুনিতে ইরানের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পড়ুন:ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল
ইমি/


