দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসগুলোতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এবং ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জাতীয় ছাত্রমঞ্চের।
আজ ৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ এ আহবান জানিয়েছে।
জাতীয় ছাত্রমঞ্চ জানায়, গত ৩ ও ৪ আগস্ট রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এবং রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
এর পরদিন ৫ আগস্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের একাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
জাতীয় ছাত্রমঞ্চ মনে করে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে না। ক্যাম্পাস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, মতপ্রকাশ এবং নিরাপদ সহাবস্থানের জায়গা।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যখন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, হামলা, ভয়ভীতি, দখলদারিত্ব কিংবা প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে মোকাবিলার পর্যায়ে যায়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আমরা মনে করি, কোনো ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক পরিচয়ই তাকে সহিংসতার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না।
এই বাস্তবতায় জাতীয় ছাত্রমঞ্চ তার ঘোষিত ১১ দফা অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অন্যতম ‘শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সকল ছাত্রসংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রমঞ্চের আহ্বান
১. ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কে অবিলম্বে সকল প্রকার সংঘাত, হামলা ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।
২. রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক মতপার্থক্য কোনোভাবেই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ দেওয়া যাবে না; মতবিরোধের সমাধান করতে হবে সংলাপ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো দল, সংগঠন বা পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে সংঘটিত প্রতিটি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংঘাতে বহিরাগতদের ব্যবহার বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা, আবাসন, চলাচল ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংঘাতের কারণে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
৭. শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি, হুমকি, জোরপূর্বক মিছিল বা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
৯. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
১০. সকল ছাত্রসংগঠনকে পারস্পরিক সহাবস্থান, মতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
১১. ‘শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস’কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সকল ছাত্রসংগঠনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রমঞ্চ স্পষ্টভাবে বলতে চায়, ক্যাম্পাসে আধিপত্যের রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আমরা ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সকল ছাত্রসংগঠনকে সংঘাতের পথ পরিহার করে সংলাপ ও সহাবস্থানের রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকসমাজ, ছাত্রসংসদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন।
পড়ুন : বিএনপির দলীয় ফোরামে রাষ্ট্রপতির জন্য মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত


