মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ববিরোধের জেরে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার পরদিন শনিবার দুপুরে এছাহাক সরদারের বাড়িতে হামলা, দুটি বসতঘর ভাঙচুর ও অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে তিন যুবক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পাশের একটি দোকান থেকে চা খেয়ে একা বাড়ি ফিরছিলেন এছাহাক। পথে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা ও লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন প্রথমে এছাহাককে কুপিয়ে জখম করেন। পরে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এরপর শনিবার দুপুরে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন আবার ওই বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে জাহিদ খান (২৫), রাজিব সরদার (২৫) ও নাজমুল ব্যাপারী (২৩) আহত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালকিনি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত এছাহাক সরদারের স্বজন ইসমাইল বলেন, “পূর্বশত্রুতার জেরে ঝালু মোল্লা ও তাঁর লোকজন এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এর পরদিন আবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝালু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর উত্তর জনারদন্দী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো সংঘাত এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পড়ুন: জ্বালানি সংকট সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সমাধানে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
আর/


