“হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি” এই পতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এন্ড হেলথ সাইন্সেসের আয়োজনে বনাঢ্য র্যালি, কেক কাটা, সায়েন্টিফিক সেমিনার ও বীনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।র্যালি শেষে কলেজ মিলনায়তনে কেককাটা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন যশোহর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল কবির জাহিদ। ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এন্ড হেলথ সাইন্সেসের অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত ডা: রোকসানা আক্তারের সভাপতিত্বে সহকারী পরিচালক ইমরান আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ সমন্বয়কারী ও ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা: আব্দুল কুদ্দুস জাহিদ, মানবসম্পদ বিভাগ ও হিসাব শাখার প্রধান মো: দিদার হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ফিজিওথেরাপিস্ট ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।পরে ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপিকে শুধু ব্যথা নিরাময়ের একটি পদ্ধতি হিসেবে না দেখে রোগ প্রতিরোধ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, স্ট্রোকের পর রোগীর চলাফেরা, ভারসাম্য, পেশিশক্তি, সমন্বয় ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক অবস্থার উপযোগী নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে তাদের দক্ষতা, মানবিকতা, নৈতিকতা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা প্রদানের মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠতে হবে।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬-এর তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজকরা বলেন— “সুস্থ, সচল ও স্বনির্ভর জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি—মানবিক স্বাস্থ্যসেবার একটি অপরিহার্য অংশ।” বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে MCPHS-এর এই আয়োজন ফিজিওথেরাপি পেশার গুরুত্ব এবং হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে শারীরিক সক্রিয়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পড়ুন: প্রশ্নের মুখে ‘পিংক বাস’: মেয়াদহীন গাড়ীতে নতুন রং, মাসে লোকসান ১২ লাখ!
আর/


