জামালপুর সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে সদর উপজেলার বারুয়ামারী মন্ডলবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী শিশুটি স্থানীয় দারুল উলুম জাহাঙ্গীর আলম কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থী।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটি বাড়ির কাছে সেন্ট্রাল স্কুল সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ঘরের সামনে অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী মৃত আবু খালেক আকন্দের পুত্র মো: সুজন (৩৬) শিশুদের নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখানোর প্রলোভন দেখায়। পরে অন্যান্য শিশুদের বিদায় দিয়ে সুজন ভুক্তভোগী শিশুকে টাকার লোভ ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়ি ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করলে তার মা জিজ্ঞেস করার পর সে বিস্তারিত প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার আসামির বাড়িতে বিচার চাইতে গেলে অভিযুক্ত সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে তাদের তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর জামালপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলা দায়েরের পর তিন সপ্তাহ পার হলেও আসামি মোঃ সুজন গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুর সদরের বারুয়ামারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) শাহাজাদা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পড়ুন : নদী পেরিয়ে স্কুল, সংকটে চরাঞ্চলের শিক্ষা কার্যক্রম


