বিজ্ঞাপন

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক নিশ্চিত করলেন জিন্নাত

বিজ্ঞাপন

অবশেষে এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের দেখা পেল বাংলাদেশ। উশুর ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উশুকা জিন্নাত আক্তার। তার এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চার দশক পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো একটি নাম।

আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উশুর এই প্রতিযোগিতা। ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টের প্রাথমিক পর্বে বাই পাওয়ায় সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন জিন্নাত। ফলে শুরুতেই একটি ধাপ পার হয়ে শেষ আটে ওঠেন বাংলাদেশের এই উশুকা।

কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার থারিসা ডি ফ্লোরেন্টিনা। তবে ম্যাচে লড়াই করার আগেই প্রতিপক্ষ অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে যান। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে না লড়েই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় জিন্নাতের।

সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদক। কারণ উশুর এই ইভেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ওজন শ্রেণিতে আটজনের বেশি প্রতিযোগী থাকলে সেমিফাইনালে ওঠা চার প্রতিযোগীর প্রত্যেকেরই পদক নিশ্চিত হয়। জিন্নাতের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়েছিলেন মোট ১৬ জন প্রতিযোগী। তাই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েই বাংলাদেশের হয়ে পদক নিশ্চিত করেন তিনি।

জিন্নাতের পদক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলু জানিয়েছেন। তার এই সাফল্যে দীর্ঘদিন পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকপ্রাপ্তির অপেক্ষার অবসান হলো।

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত ইভেন্টের পদকপ্রাপ্তির ইতিহাস বেশ সংক্ষিপ্ত। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। সেটিই এতদিন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সর্বশেষ পদক হিসেবে ছিল।

এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা এশিয়ান গেমসে অংশ নিলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কোনো পদক আসেনি। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন জিন্নাত আক্তার। তার সাফল্যের ফলে বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।

তবে জিন্নাতের অভিযান এখানেই শেষ নয়। পদক নিশ্চিত হলেও এখন তার সামনে রয়েছে আরও বড় সুযোগ। সেমিফাইনালে জয় পেলে সরাসরি স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে উঠে যাবেন বাংলাদেশের এই উশুকা। আর সেমিফাইনালে হেরে গেলেও অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই প্রতিযোগিতা শেষ করবেন তিনি।

সেমিফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ চীনের ডি উ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই লড়াই বাংলাদেশের উশুর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সেমিফাইনালের ফলের ওপর নির্ভর করবে জিন্নাতের পদকের রং। জয় পেলে রুপা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বর্ণের জন্য লড়ার সুযোগ পাবেন তিনি।

পদক নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জিন্নাত। তিনি বলেন, দেশের জন্য কিছু করতে পেরে তিনি অনেক খুশি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উশুকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে সবার দোয়া চেয়েছেন এই উশুকা।

জিন্নাতের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের উশু অঙ্গনের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে একটি পদক নিশ্চিত করা যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য বড় অর্জন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে আসা বাংলাদেশের উশুর জন্যও এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

বিশেষ করে ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টে ১৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া জিন্নাতের পারফরম্যান্সকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত ওজনের কারণে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি, তার আগে প্রাথমিক পর্বের বাধা পেরিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের এই ক্রীড়াবিদ।

এখন সবার নজর সেমিফাইনালের দিকে। চীনের ডি উয়ের বিপক্ষে লড়াইয়ে জিততে পারলে জিন্নাতের সামনে থাকবে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের সুযোগ। আর সেই ম্যাচে পরাজয় এলেও বাংলাদেশের ঝুলিতে যোগ হবে একটি ব্রোঞ্জ পদক।

চার দশক পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের খরা কাটিয়ে জিন্নাত ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। এখন তার সামনে আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ। সেমিফাইনালে জয় পেলে শুধু পদকের রং বদলানোর সুযোগই নয়, বাংলাদেশের উশুকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, জিন্নাতের লড়াই এখানেই থামবে না। ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার পর এবার সেমিফাইনালে জয় তুলে নিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নেবেন তিনি। তবে ফল যাই হোক, দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক নিশ্চিত করে ইতোমধ্যেই নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখে ফেলেছেন জিন্নাত আক্তার।

পড়ুন:লা লিগায় নিরপেক্ষ নেতৃত্ব চায় রিয়াল মাদ্রিদ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন