একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে নতুন করে হামলা হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত ইরানের। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আবার সামরিক হামলা চালালে সংঘাত পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর পেরিয়ে ভারত মহাসাগর এবং তারও বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করলে এর রণাঙ্গন আরও বড় হয়ে ভারত মহাসাগর এবং সম্ভবত তারও দূরের অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
সাফাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ কিংবা সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
এ সময় লোহিত সাগরে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
মেজর জেনারেল সাফাভি বলেন, ‘গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনি জনগণ যে কোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলতে চাই, আমেরিকানরা যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে তাদের চোখের সামনেই যুদ্ধের এক সম্পূর্ণ নতুন ফ্রন্ট বা সক্রিয় রণাঙ্গন উন্মোচিত হয়ে যাবে।’
এর আগে সাফাভি সংঘাতের বর্তমান বিস্তার তুলে ধরে বলেন, ‘সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন বা তেল আবিব যদি হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে এই সংঘাতের রণাঙ্গন আরও বড় হয়ে ভারত মহাসাগরে এবং সম্ভবত তার চেয়েও দূরের বিস্তৃত অঞ্চলে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’
ইরানের এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর আবার হামলা চালাবেন নাকি শান্তি চুক্তির পথে এগোবেন, সে বিষয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এ কথা বলেন ট্রাম্প। একই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের সমাধান না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার পথও বেছে নিতে পারেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দেশটিকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত নিশ্চিহ্ন করা হবে—এ বিষয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নানা ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্য
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ওই ভাষণে ট্রাম্প ‘বৈশ্বিক সরকার’ ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বর্তমানে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তিনি নিজেই এক ডজনের বেশি বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প অর্থনীতি, অভিবাসন, সীমান্ত এবং সহিংস অপরাধ দমনে নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
তার ভাষণের এই অংশে এমন একটি আবহ তৈরি হয় যে, নিউইয়র্কে উপস্থিত কূটনীতিকদের পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটারদের কাছেও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
পড়ুন: শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের
আর/


