বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাজারে মাছ-মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি, ডিমে উল্টো চিত্র

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের মাছ ও মুরগির দাম কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে তেলাপিয়ায়—কেজিতে ৮০ টাকা। পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা। কম দামে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি আকারের রুই ও পাবদাও। মুরগির বাজারেও কমেছে দাম; কেজিতে ব্রয়লার মুরগি ১৫ টাকা কমেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মাছ-মুরগির বাজারে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ডিমে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রাউন ডিমের দাম ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এসব দামের চিত্র পাওয়া গেছে।

তেলাপিয়ায় ৮০, পাঙাশে ৩০ টাকা কম

বাজারের গত এক সপ্তাহের দামের সঙ্গে বর্তমান দামের তুলনা করলে মাছের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা নেমে এসেছে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা।

তেলাপিয়ার ক্ষেত্রে কমেছে আরও বেশি। গত সপ্তাহে যে তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, আজ সেই মাছ পাওয়া যাচ্ছে ১৮০ টাকায়। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই মাছের দামও কমেছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের কেজি ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা। আজ তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমে মিলছে একই মাছ।

পাবদার দামও কমেছে। গত সপ্তাহে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাবদা আজ নেমে এসেছে ৩০০ টাকায়। এদিন বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্রয়লারেও কমেছে কেজিতে ১৫ টাকা

মাছের পাশাপাশি মুরগির বাজারেও কিছুটা কমেছে দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

অবশ্য হাইব্রিড সোনালি মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মুরগির দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা।

গরুর মাংসে নেই পরিবর্তন

মাছ ও মুরগির দামে কমতির চিত্র থাকলেও গরুর মাংসের দাম আগের জায়গাতেই রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো শুক্রবারও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্রাউন ডিমে বাড়তি চাপ

মাছ ও মুরগির বাজারে দাম কমলেও ডিমের ক্ষেত্রে চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন। গত সপ্তাহে ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম ছিল ডজনপ্রতি ১৪০ টাকা। ব্রাউন ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন।

এক সপ্তাহ পর ব্রয়লার সাদা ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো ১৪০ টাকা ডজনেই বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজনে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

এ ছাড়া শুক্রবারের বাজারে প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে।

ক্রেতার চোখে মাছের দাম কমলেও ডিম নিয়ে শঙ্কা

বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা জাহিদ হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, কম-বেশি মাছ প্রতি সপ্তাহেই কেনা হয়। আজকে মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম দেখছি। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট মনে হয়েছে। কিন্তু, ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, এটা তো আর সাধারণ মানুষ কিছুদিন পর কিনতে পারবে না। ১৫০ টাকা টাকার নিচে নামছেই না।

ওঠানামা করছে মাছের দাম

মাছ বিক্রেতা রুবেল বলেন, মাছের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আবার সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় এখন পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও পাবদার দাম কিছুটা কম। আমরা কমে কিনতে পারলে তো ক্রেতাদেরও কমে দিতে পারি।

মুরগি বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১৭৫ টাকায় বিক্রি করছি। হাইব্রিড সোনালিও আগের দামেই আছে। শুক্রবারে চাহিদা থাকে বেশি। আমরা কমে পেয়েছি বলেই কমে বিক্রি করতে পারছি।

বেড়েছে সবজির দাম

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, ঝিঙা, ধুন্দল ও করলাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও বেড়েছে। বাজারে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে বেড়েছে বেগুনের দাম বেড়েছে। লম্বা বেগুনের দাম বাজারভেদে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুন ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কিছুদিন আগে কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেপে আগের মতো ৩০ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

পড়ুন: সরকারি ভাড়ার হিসাব একদিকে, পরিবহনে চলছে অন্য হিসাব

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন