চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মসজিদের খতিবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে অভিযুক্তের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিষয়টি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ হওয়ায় তারা সালিশি বৈঠকে অংশ নেননি।
অভিযুক্ত হাফেজ নাজিম উদ্দিন প্রকাশ ‘ডার্বি নাজিম’ উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের উত্তর খিরাম আবু বক্কর সিদ্দিক জিলানী জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে মসজিদসংলগ্ন খতিবের থাকার কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনৈতিকভাবে স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির বক্তব্য নেয় বলে শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এরপর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করার বক্তব্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—এমন বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি তাদের অবহিত করেছিল। যেহেতু এটি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এবং আইনগত বিষয়, তাই তারা সালিশি বৈঠকে অংশ নেননি। তবে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে তাদের দুজনের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, এর আগেও অভিযুক্ত খতিবের বিরুদ্ধে একাধিক শিশুর সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেসব ঘটনা প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে থানায় মামলা করার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। মামলা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৌরভ হোসেন বলেন, “এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা সালিশি বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। এখনই এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
পড়ুন : সীতাকুণ্ডে মাদকবিরোধী র্যালি, অংশ নিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা


