২৪০ রানে অলআউট আফগানিস্তান, হাসান-ইবাদতের ৯ উইকেট শিকার

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ২৪০ রানেই গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। একপ্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক রহমত শাহ লড়াকু সেঞ্চুরি হাঁকালেও দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৪৬ রান, যার ফলে আফগানিস্তানকে অলআউট করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করেছে।

বিজ্ঞাপন

দিনের শুরুতেই আফগানিস্তানের তীব্র প্রতিরোধ ভাঙেন বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় ওভারে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের ২১১ বলে গড়া ৮০ রানের জুটিটি ভেঙে দেন গতিদানব এবাদত হোসেন। এর ঠিক পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে চমক দেখান ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ।

৮৩তম ওভারের প্রথম দুই বল ডট দেওয়ার পর তৃতীয় বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে ইসমত আলমের অফস্টাম্প উপড়ে ফেলেন হাসান। এরপরের বলেই নতুন ব্যাটার কাইস আহমেদের ব্যাটের কিনারা ছুঁয়ে আসা ক্যাচ মাটি থেকে ইঞ্চিখানেক উঁচুতে গ্লাভসবন্দি করেন উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাস। টানা দুই উইকেটের পর হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হলে পরবর্তী বলে জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। আম্পায়ার সাড়া না দিলে অধিনায়ক শান্ত সতীর্থদের সাথে কথা বলে রিভিউ নেন। আল্ট্রাএজে ব্যাটের স্পর্শ না মিললেও বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল অফস্টাম্পে আঘাত হানত, ফলে আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানালে উদ্ভাসিত হয় ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত।

বোল্ড, ক্যাচ এবং এলবিডব্লিউ—এই তিন ভিন্ন আউটে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ সম্পন্ন করার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন হাসান মাহমুদ। তিনি টেস্ট ফুটপ্রিন্টে বাংলাদেশের প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন। সার্বিকভাবে এটি বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০০৩ সালে পেশাওয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন, তবে তারা দুজনই ছিলেন স্পিনার।

ইতিহাস গড়ার পর থেমে থাকেননি হাসান। এক ওভারের বিরতি দিয়ে পরের ওভারেই ইয়ামিন আহমদজাইকে লিটনের ক্যাচে পরিণত করে নিজের ৫ উইকেট (ফাইফার) পূর্ণ করেন তিনি। ব্যাটারা রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে ব্যর্থ হন। এটি টেস্টে হাসানের চতুর্থ ফাইফার।

অন্য প্রান্তে সমান তাণ্ডব চালিয়েছেন পেসার এবাদত হোসেনও, যিনি তুলে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। দুই পেসারের যৌথ হামলায় হাসান মাহমুদ (৫ উইকেট) ও এবাদত হোসেন (৪ উইকেট) মিলে মোট ৯টি আফগান উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে থমকে যায়।

অধিনায়ক রহমত শাহ সতীর্থদের উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিলের মধ্যেও একা লড়াই চালিয়ে শতক পূরণ করলেও দলের লিড সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। ১০৬ রানের বড় লিড নিয়ে হাতে থাকা দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

পড়ুন : মুক্তির পর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন