গাইবান্ধার সাঘাটায় এক তরুণীকে (২১) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (সংবাদ প্রকাশের দিন) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার রাতে উপজেলার হেলেঞ্চা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার নির্জন স্থানে এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক সন্তানের জননী ওই তরুণী উপজেলার টেপা পদুমশহর গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার তিনি গোবিন্দগঞ্জে বোনের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই গৃহবধূ তার বড় বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশনে যান। তার সাত বছর বয়সী মেয়ে বড় বোনের কাছে লালন-পালন হচ্ছে। সেখান থেকে তার গোবিন্দগঞ্জে আরেক বোনের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। জংশন এলাকায় বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে দেখা হয় তার। তাদের সঙ্গে কথা শেষে পরে রাত ১০টার দিকে তার ভগ্নিপতি পরিচিত সৈকতকে তাকে গোবিন্দগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে সৈকত ভ্যানচালক মুস্তাকিমকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূকে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার রাত ১০টার দিকে হেলেঞ্চা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার নির্জন স্থানে নিয়ে ওই দুই যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তরুণীর চিৎক্কার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে প্রথমে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে এবং পরে সাঘাটা থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ৬)। পাশাপাশি, পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ভূমিষ্ঠ শিশু পেল ওয়ারিশের স্বীকৃতি


