আত্মগোপনে থেকে সারের ডিলার পেলেন জুলাই হত্যা হামলা মামলার আসামী!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি ইউনিয়নে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলার আসামীকে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ এনিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী পোষ্ট দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সারাদেশে ইউনিয়ন সহ নানান পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রক্রিয়া অনুযায়ী উপজেলা কমিটি থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন ডিলারের নাম জেলা সার ও বিজ মনিটরিং কমিটিকে সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশ কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরই অংশ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত ডিলার তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই তালিকা প্রকাশের পর গত দুদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তোলপাড় চলছে। তালিকা অনুযায়ী উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মেসার্স বিলাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মালিক মো. বিল্লাল মিয়া যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে হামলাকারী ও হত্যা মামলার আসামী বিল্লাল মিয়াকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৬ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন মামলায় ১৩৬ নম্বর আসামী। এই মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন বিল্লাল মিয়া। আত্মগোপনে থাকা অবস্থাই সারের ডিলারের জন্যে আবেদন করেন তিনি। চূড়ান্ত ডিলার শীপের তালিকায় তার নাম আসে। শুধু তা ই নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার জেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় এক নম্বরে ছাত্রদল নেতা দুলাল আহমেদের নাম সুপারিশ করা হলেও চূড়ান্ত সুপারিশে তা বদলে ফয়সাল রাজা খালিদ নামে একজনকে দেওয়া হয়েছে। এই ডিলার শীপ নিয়ে গত দুইদিন ধরে সরাইলে চলছে তুমুল বিতর্ক।

সরাইল উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক রিফাত বিন জিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামীকে কিভাবে সুপারিশ করা হলো? কিসের মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা তদন্ত করা উচিৎ। যারা দলের জন্যে নিবেদিত ছিল, গত ১৭ বছর দলের জন্যে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে তাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। শুধু একটি ইউনিয়নে নয় অধিকাংশ ইউনিয়নে এমন অনেক অনিয়ম হয়েছে। যারা নতুন কাগজপত্র তৈরি করে জমা দিয়েছে, তাদেরকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, কিভাবে একজন জুলাই আন্দোলনের মামলার আসামীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বোধগম্য নয়। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে জোরদাবি জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে জানতে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবিরকে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, উপজেলা কমিটির মাধ্যমে জেলায় তালিকা পাঠানো হয়, সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হলে ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আমরা শুনেছি, আইনগত ব্যবস্থা যা নেওয়ার তা নিব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই সুপারিশ আমরা দেয়নি, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে।

সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরাম হোসেনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, আমি আর এখন সরাইলে নেই। যখন ডিলারের তালিকা করা হয় তখন আমি সেখানে ছিলাম। তখন ইউএনও মহোদয়ের কিছু এবং আমার কাছে কিছু রাজনৈতিক সুপারিশের ডিলারের জন্যে দিয়েছিলাম। তবে নোয়াগাঁওয়ের এই ডিলারের জন্যে আমি সুপারিশ করিনি৷

পরবর্তী সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি৷

তবে ব্রাহ্মণবাড়ি জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, যেটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে তা ইউএনও’র পাঠানো তালিকায় ছিল না। আইন বহির্ভূত হলে তা বাদ দিয়ে দিব। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, অভিযুক্ত বিল্লালের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় কোন মামলা নেই। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা আছে বলে জানতে পেরেছি। আমাদের এই বিষয়ে কোন অবগত করা হয়নি।

এই বিষয়ে জানতে জানতে বিল্লাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পড়ুন:আন্দোলনের ২১তম দিনে তালা ভেঙে উপাচার্যের প্রবেশ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন